
বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে এক অভূতপূর্ব সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুধু ভূখণ্ড নয়,একটি জাতিরআত্ম পরিচয়, আত্মমর্যাদা ও স্বাধীন সত্তার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আজ সেই অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে, অবৈধ দখলদার খুনি-ফ্যাসিস্ট ইউনূস গং রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করার পর থেকেই মুক্তিযুদ্ধবিরোধী চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি, শহিদদের আত্মত্যাগকে তুচ্ছজ্ঞান করা, এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি মুছে ফেলার ঘৃণ্য প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। এই অপতৎপরতা প্রমাণ করে যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আকাঙ্ক্ষার রক্ষক একমাত্র আওয়ামী লীগ—অন্য কোনো শক্তির পক্ষে তা সম্ভব নয়।
অবৈধ সরকারের ক্ষমতাসীন হওয়ার পর পাকিস্তানপন্থী উগ্র-সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী পুনরুজ্জীবিত হয়।বাংলাদেশ যেন পাকিস্তা নের প্রেসক্রিপশনে পরিচালিত হতে থাকে। একদিকে ভারতবি রোধিতার নামে হুজুগ তোলা হয়, অন্যদিকে স্বাধীনতাকে ভারতের ষড়যন্ত্র হিসেবে উপস্থাপনের অপচেষ্টা চলে।
পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যাচলাইন এমনকি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে ভারতের ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে ধৃষ্টতার সঙ্গে বলেছে—”সময় এসেছে পূর্ব পাকিস্তানকে তার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার।” এটি কেবল একটি দেশের ইতিহাস বিকৃতি নয়, বরং পুরো জাতির আত্মপরিচয়ের ওপর সরাসরি আঘাত।
গত এক বছরে পাকিস্তানি কূটনীতিক, রাজনৈতিক নেতা, মন্ত্রী এমনকি সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর তৎপরতা বাংলাদেশে ক্রমশ বেড়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রকাশ্যে বলেছেন, ১৯৭১ সালের গণহত্যার ইস্যুটি “মীমাংসিত”। অথচ বাংলাদেশের জনগণ প্রত্যাশা করেছিল এ বিষয়ে পাকিস্তানের নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা। কিন্তু অবৈধ সরকারের দুর্বল অবস্থান ও ন্যূনতম প্রতিবাদ না জানানো এটিকে প্রহসনে রূপ দিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে—কেন এই অবৈধ সরকার পাকিস্তানের কাছে নতজানু? কেন পরাজিত শক্তিকে আবার বাংলাদেশে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে?
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে পাকিস্তানিদের এমন খেলা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ও হানাদারবাহিনী যে ভয়াবহ নৃশংসতা চালিয়েছিল, সেই ইতিহাসকে পাশ কাটিয়ে আজকের পাকিস্তানমুখী তৎপরতা শহিদদের আত্মত্যাগকে অপমান করার শামিল।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রতিটি দেশপ্রেমিক মানুষ এই ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে ঐক্যবদ্ধ হবে। দেশের অর্জন, স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জনগণই হবে শেষ প্রতিরোধ।
#Bangladesh