স্টাফ রিপোর্টার:- কমিশন না পেয়ে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক(পিডি) ওবায়দুল ইসলামকে অবরুদ্ধ করে
পবিপ্রবিতে উন্নয়ন থুপড়ে পড়ার সম্ভাবনা।
-পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যাল ক্যাম্পাসে সাম্প্রতিক এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনায় এসেছে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উন্নয়ন প্রকল্প ঘিরে প্রভাব বিস্তার, আর্থিক দাবি এবং ছাত্ররাজনীতির ভূমিকা। প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মো. ওবায়দুল ইসলাম কে তার নিজ কার্যালয়ে তালাবদ্ধ করে রাখার ঘটনায় তোলপাড়, শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—এটি একটি গভীরতর সংকটের বহিঃপ্রকাশ বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সোমবার দুপুরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মুক্ত হন পিডি। অভিযোগ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি রাতুল রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা জনির নেতৃত্বে একদল কর্মী চলমান উন্নয়ন প্রকল্প থেকে এক শতাংশ হারে অর্থ দাবি করে, যার পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ টাকা। দাবি প্রত্যাখ্যান করায় তাকে কক্ষে আটকে রাখা হয় ।
তবে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করা হয়েছে!
প্রশ্ন—উন্নয়ন প্রকল্পগুলো কি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার আওতায় পরিচালিত হচ্ছে, নাকি এগুলো রাজনৈতিক প্রভাব ও স্বার্থের সংঘর্ষে পরিণত হচ্ছে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উন্নয়ন বাজেট বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ধরনের চাঁদাবাজরা পার্সেন্টেজ সংস্কৃতিতে মেতে উঠেছে । অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব খাটানোর প্রবণতা বাড়ছে , যা শিক্ষা পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
এ ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার সময় সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রারের সঙ্গে যোগাযোগ করা না গেলেও, দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করা না গেলে এমন ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা নয়; বরং এটি বৃহত্তর কাঠামোগত দুর্বলতার প্রতিফলন, যেখানে উন্নয়ন, রাজনীতি এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ এক জটিল সমীকরণ তৈরি করেছে। এই সমীকরণ ভাঙতে হলে প্রয়োজন কঠোর জবাবদিহিতা, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিরপেক্ষ অবস্থান,
চলমান কাজের ঠিকাদার পক্ষ থেকে জানানো হয়
পবিপ্রবির ছাত্রদলের সভাপতি সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা কাজে বাধা দেওয়া
চাঁদা দাবি করে না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয় পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বিডি ওবায়দুল এর কাছে বিলের ১% টাকা দাবি করে আর তা দিতে অস্বীকার করাে করে বলেই পবিপ্রবির এই ঘটনা।
তাই একটি সতর্কবার্তা—উন্নয়নের কাজে যদি চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটতে থাকে শিক্ষা ও নৈতিকতার ভিত্তিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলবে।
এরকম ঘটনা পূর্ব এরকম ঘটনা আবৃত্তি আর না ঘটুক
এমনটাই প্রত্যাশা করছে সংশ্লিষ্টরা।
ভিডিও ওবায়দুর রহমান নিজ কক্ষে প্রায় ২ ঘন্টা তাঁকে আটকে অবরুদ্ধ করে রাখা অসভ্য সংকেতের ইঙ্গিত দেয়, ওই অবস্থায় তিনি অবস্থায় পিডি ওবায়দুল এক ভিডিওতে দাবি করেন, ১ শতাংশ কমিশনের টাকা না দেওয়ায় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা তাঁকে অবরুদ্ধ করেছেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক চলমান প্রকল্পের পরিশোধিত বিলের ১ শতাংশ টাকা দাবি করেন। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁরা তাঁকে অবরুদ্ধ করেছেন।
ওবায়দুল ইসলাম অভিযোগ করে আরও বলেন, ‘এর আগে গত ৭ এপ্রিল ছাত্রদল নেতারা একই দাবিতে আমার কাছে এসেছিলেন। আমি তাঁদের ফিরিয়ে দিয়েছিলাম। তাঁরা আজ ক্ষুব্ধ হয়ে আমার কার্যালয়ের কক্ষের দরজায় তালা লাগিয়ে আটকে রেখেছেন। অবরুদ্ধদশা থেকে মুক্ত হয়ে ছাত্রদল নেতাদের পাশে বসে পিডি বলেন, বিষয়টি ভুল বোঝাবুঝি ছিল এবং দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে পরবর্তীতে প্রতিনিধিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ক্যাম্পাস থেকে বের হতে তখন তাকে যা বলতে বলা হয়েছে সেটাই তিনি বলতে বাধ্য হয়েছেন। এখন ক্যাম্পাসের বাইরে থাকায় নিরাপদ বোধ করছেন। কমিশন না দেওয়ার কারণেই তাকে অবরুদ্ধ করা হয়েছিল। এভাবে কমিশন দিয়ে তো দায়িত্ব পালন করা যাবে না।
অন্যদিকে চলমান কাজের ঠিকাদার পক্ষ থেকে আরো জানানো হয় ছাত্রদলের সভাপতি রাতুল রহমান সম্পাদক সোহেল রানা জনি
চলমান কাজে চাঁদার দাবিতে একাধিকবার কাজ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে।
দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এই প্রতিনিধিকে বলেন
কাজের গুণগতমান বজায় রাখার অনুরোধ করেছি। পিডির কাছে চাঁদা দাবি করার অভিযোগ টি সত্য নহে ।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড.কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি দাপ্তরিক কাজে বরিশালে ছিলেন। প্রকল্প পরিচালক ওবায়দুল ইসলাম মুঠোফোনে বিষয়টি জানালে তিনি প্রক্টর ও রেজিস্ট্রারকে কল করে বিষয়টি সমাধানের জন্য বলেন।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্য অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। এতে ব্যয় ধরা হয় ৪৩৫ কোটি টাকা। পর্যায়ক্রমে অনেক কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে ৯১ কোটি টাকার কাজ চলমান।
প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান: জয়নাল আবেদীন(সজীব) সম্পাদক ও প্রকাশক: নূর আলম ছিদ্দিক (রাজু) যোগাযোগ নাম্বার: 01710087044 নিবাহী সম্পাদক: মোহাম্মদ আলী" যোগাযোগ নাম্বার: 01890525480
ইপেপার