বাকেরগঞ্জে ৯২ কোটি টাকা ব্যয় নবনির্মিত গোমা সেতুতে রাত হলে নেমে আসে অন্ধকার!দীর্ঘ ৮ বছর প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে গত (১৭ মার্চ) বাকেরগঞ্জ দিনারেরপুল-লক্ষ্মীপয়সা-দুমকি জেলা মহাসড়কের ১৪ কিলোমিটার অংশে রাঙ্গামাটিয়া নদীর উপর নির্মিত গোমা সেতু আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
উপজেলার বহুল আলোচিত ঘোমা সেতু জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হলে নদীবেষ্টিত পূর্বাঞ্চলের মানুষের সাথে পার্শ্ববর্তী বাউফল উপজেলার সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হওয়ার পাশাপাশি বরিশাল সদর ও রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়।
তবে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে পরিচিত নবনির্মিত গোমা সেতু এখন রাতের বেলায় চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিনের আলোতে দৃষ্টিনন্দন এই সেতুটি রাত নামলেই অন্ধকারে ঢেকে যায়, ফলে পথচারী, মোটরসাইকেল চালক এবং যানবাহন চলাচলকারীদের মধ্যে বাড়ছে আতঙ্ক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটিতে এখনো পর্যন্ত সড়কবাতির স্থাপন করেনি কর্তৃপক্ষ। সন্ধ্যার পর পুরো সেতু এলাকাজুড়ে নেমে আসে ঘন অন্ধকার। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, নারী ও বয়স্কদের চলাচলে দেখা দিয়েছে চরম ভোগান্তি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাতে সেতু পার হতে গেলে অনেক সময় মোবাইলের আলো ব্যবহার করতে হয়। এ সময় চরম দুর্ভোগে পরে পথচারীরা। মাঝেমধ্যেই ছিনতাই এর মত ঘটনা ঘটছে। মোটরসাইকেল আরোহীরা বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন ঠিকমতো দেখতে না পেরে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।
এছাড়া রাত হলেই অন্ধকারের সুযোগে মাদক ব্যবসায়ীরা ভিড় জমায় এই গোমা সেতুতে।
গোমা গ্রামের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, নতুন সেতু নির্মাণ হওয়ায় আমরা খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু রাতে আলো না থাকায় সেই আনন্দ এখন ভোগান্তিতে পরিণত হয়েছে। রাত হলেই প্রায়ই ঘটে ছোট বড় দূর্ঘটনা। দ্রুত সেতুতে লাইট স্থাপন করা জরুরি না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসী জানান, জনগণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে দ্রুত সেতুতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করতে হবে। না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, শুধু সেতু নির্মাণ করলেই দায়িত্ব শেষ নয়, বরং এর নিরাপত্তা ও ব্যবহার উপযোগিতা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয়ের সাথে সড়ক বাতি কোন বরাদ্দ ছিল না। তবে সড়ক বাতির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে গোমা সেতুতে সড়ক বাতি স্থাপনের প্রয়োজনীয় বরাদ্দের বিষয় মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হবে।
প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান: জয়নাল আবেদীন(সজীব) সম্পাদক ও প্রকাশক: নূর আলম ছিদ্দিক (রাজু) যোগাযোগ নাম্বার: 01710087044 নিবাহী সম্পাদক: মোহাম্মদ আলী" যোগাযোগ নাম্বার: 01890525480
ইপেপার