নিজস্ব প্রতিবেদক:- বাংলাদেশে রন্ধনশিল্প বর্তমানে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ঊঠছে। সব শ্রেণীর ও বয়সের নারীরা রান্নার এই শিল্পটিকে এখন নেশা ও পেশা উভয়ভাবেই বেছে নিচ্ছে। বিশেষ করে অস্বচ্ছল নারীরা এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পথ খুঁজে পাচ্ছে। শিল্পটিকে ঘিরে বেসরকারিভাবে গড়ে উঠেছে অনেক প্রতিষ্ঠান।
সরকারও এক্ষেত্রে পর্যটন কর্পোরেশনের মাধ্যমে ও নানাভাবে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে রন্ধনশিল্পকে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে এই শিল্পটি জনপ্রিয় হয়ে উঠার সুযোগে এক শ্রেনীর অর্থলোভী নারী এই শিল্পকে পুঁজি করে অবৈধ কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়ে পড়েছে। এমনকি, এটি যেহেতু নারী প্রধান শিল্প তাই কিছু অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থকারী নারী এই শিল্পের সাইনবোর্ডের আড়ালে নারী ব্যবসা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে স্পন্সর আদায়ের নামে চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়েছে। এর জন্য তারা নিজেদের সর্বস্ব উজার করে দিতেও কুণ্ঠাবোধ করছে না। আর এসবের নেতৃত্ব দিচ্ছে কিছু প্রভাবশালী অসৎ প্রকৃতির নারী। যারা বিগত সরকারের আমলে বিতর্কিত মন্ত্রী, এমপি, আমলা, আইনশৃংখলা বাহিনী, ব্যবসায়ী সহ শিল্পপতিদের মনোরঞ্জন করেছে এই শিল্পের নামে আর্থিক ফায়দা হাসিলের জন্য। ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তারা নিজেদের রূপ রঙও পরিবর্তন করে নতুনভাবে নিজেদের স্বার্থ হাসিলে ব্যস্ত রয়েছে। এমনকি অনেকে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনেও নিজেদের অবৈধ কর্তৃত্ব চালিয়ে যাচ্ছে। এদের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন, ন্যাশনাল হোটেল এন্ড ট্যুরিজম ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের ব্যবস্থাপক জাহিদা বেগম। তিনি নিজেকে রন্ধনমাতা দাবি করে পতিত আওয়ামীলীগ সরকারের প্রভাবে পর্যটন করপোরেশনের নানা সুযোগ সুবিধা হাতিয়ে নিয়েছেন। মুজিব শতবর্ষে ১০০ কেজির কেক বানিয়ে আরও প্রভাবশালী হয়ে উঠেন তিনি। সরকারি বিধিমালা ও নীতিমালার তোয়াক্কা না করে ন্যাশনাল হোটেল এন্ড ট্যুরিজম ইনস্টিটিউটের ফুড এন্ড বেভারেজ বিভাগের ব্যবস্থাপক দুর্নীতিবাজ জাহিদা বেগম গড়ে তুলেছেন একটি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট। সরকারি এই প্রতিষ্ঠানের মতই শুধু ন্যাশনাল বাদ দিয়ে হোটেল এন্ড ট্যুরিজম ট্রেনিং ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ গড়ে তুলে দিব্যি চালিয়ে যাচ্ছেন প্রতারণা। নিজের ছবি ব্যবহার করে তার স্বামী পর্যটন কর্পোরেশনের উপব্যবস্থাপক শেখ মেহেদী প্রতিষ্ঠানের এডমিন থেকে এই প্রতিষ্ঠানের নামে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছেন জাহিদা বেগম। তিনি সরকারি চাকুরি বিধিমালা লংঘন করে অবৈধ কর্মকান্ড চালিয়ে গেলেও পর্যটন কর্পোরেশনের যেন কেউ দেখার নেই। অভিযোগ রয়েছে আওয়ামীলীগের ১৬ বছরে বিভিন্ন মন্ত্রী, এমপি, ও মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে চলতেন জাহিদা বেগম। ক্ষমতার দাপটে নিয়েছেন অবৈধ প্রমোশনও। এখনও পর্যটন কর্পোরেশন ও মন্ত্রনালয়ে ফ্যসিস্ট আমলের কর্মকর্তাদের দাপটে চলছেন জাহিদা। প্রকৃত রন্ধনবিদরা বলছেন, রন্ধনশিল্পকে বর্তমান সময়ে নানা অপকর্মের মাধ্যমে কুলষিত করে চলেছে জাহিদার মত অনেক নামসর্বস্ব স্বার্থান্বেষী রন্ধনমাতা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক রন্ধনশিল্পী এই প্রতিবেদককে জানান, আওয়ামী আমল থেকে প্রতারণা চালিয়ে যাওয়ার ফ্যাসিবাদের এই দোসর বর্তমানে তার মুখোশ পালটিয়ে নতুনভাবে প্রতারণা করে যাচ্ছেন। এতে করে দেশের রন্ধনশিল্প ও এই শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের জীবনমান হুমকির মুখে পড়েছে৷
তার দুর্নীতির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের সুদৃষ্টি কামনা করছেন রন্ধনশিল্পীরা।
প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান: জয়নাল আবেদীন(সজীব) সম্পাদক ও প্রকাশক: নূর আলম ছিদ্দিক (রাজু) যোগাযোগ নাম্বার: 01710087044 নিবাহী সম্পাদক: মোহাম্মদ আলী" যোগাযোগ নাম্বার: 01890525480
ইপেপার