মহেশখালীর ফয়সল মৃ*ত্যুর আগে শেষবারের মতো তার হাতের বাধন টা খুলে দিতে বলছিল এক গ্লাস পানি খাবে বলে।ফয়সালকে চোর সন্দেহে পি*টিয়ে হ*ত্যা করা হয়েছে। অ*মানুষিক নি*র্যাতনের কারণে গলা শুকিয়ে মুখ দিয়ে ফানা পড়ছিল।ফয়সাল তার ছোট্ট শিশুটির জন্য বাঁচতে চেয়েছিল।

ফয়সল তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর জন্য প্রাণভিক্ষা চেয়ে বলেছিল,আমাকে ছেড়ে দিন প্লিজ।আমার স্ত্রীর পেটে বাচ্চা।আমার ছোট্ট একটা বাচ্চা আছে।আমার হাতের বাধন টা খুলে দেন।আমার গলা শুকিয়ে যাচ্ছে আমাকে একটু পানি দেন।আমি একটু পানি খাবো।আমি আর সহ্য করতে পারছিনা।

কারেন্টের খুটির সাথে দুই হাত আর দুই পা পিছন থেকে বেধে কাধের উপরে ৮-১০ টা ইট চাপা দিয়ে রেখেছে। পানি পিপাসায় গলা শুকিয়ে মুখ দিয়ে ফানা বের হচ্ছে। ফয়সালের আর্তনাদ কারোর কর্ণ কুহুর পৌঁছে নি।না জানি ফয়সল মৃ*ত্যুর আগে কতটা কষ্ট পেয়েছে।

একটা মানুষ এত আকুতি মিনতি করার পরেও তাকে প্রাণে বাঁচতে দেয়নি পা*ষন্ড জনগণ।চোর সন্দেহে কাউকে পিটিয়ে হ*ত্যা করা কোন আইনে পড়ে?দেশে তো আইন আছে!পুলিশ প্রশাসন আছে! তাদের হাতে তুলে দিন।দেশের প্রচলিত আইনে যে শাস্তি পাবে সেটা প্রশাসন ব্যবস্থা করবে।

দেশের আইন ব্যবস্থা এতটাই দুর্বল হয়েছে যে,এই অমানবিক হত্যাকান্ডের বিচার এখনো পর্যন্ত হয়নি।অর্থাৎ মানুষকে পিটিয়ে মারলে কোন বিচার হচ্ছে না।দেশের বিচার ব্যবস্থার অবস্থা যদি আমার নাজুক হয় তাহলে আগামীতে সবাই সবাইকে পিটিয়ে হ*ত্যা করবে।

দিনে দুপুরে চোর সন্দেহে একটা মানুষ কে অমানুষিক নির্যাতন করে পি*টিয়ে মারা হলো অথচ বিচার হচ্ছেনা।এই দেশে কি বিচার ব্যবস্থা আছে?নাকি টাকার কাছে বিক্রি হয়ে গেছে?যে দেশে মানুষ হত্যার বিচার হয়না সেই দেশ বসবাসের উপযোগী থাকেনা।

প্রশাসন যদি সুষ্ঠ তদন্ত করে ফয়সল হ*ত্যার বিচার করতে পারে তাহলে এই দেশে আর এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না।