এক তরুণীর ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগে মামুনুর রহমান কাচু নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ। কাচু নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ফেসবুকের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে কুরুচিপূর্ণ প্রচারণাসহ মাদক, ছিনতাই ও ক্লিনিক ভাঙচুরের একাধিক মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
আজ সকাল ১০টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর আলুপট্টি মোড় এলাকা থেকে বোয়ালিয়া মডেল থানার একটি আভিযানিক দল তাকে আটক করে। গ্রেপ্তারকৃত মামুনুর রহমান কাচু নগরীর আমবাগান এলাকার মৃত মোজাফফরের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদী মাহবুবা খাতুন নীলা অভিযোগ করেছেন—তার পূর্বপরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি তার ভিডিও ধারণ করে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। পরবর্তীতে তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে কিছু টাকা পরিশোধ করলেও বাকি টাকার জন্য তাকে ক্রমাগত চাপ ও বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এরপর ‘এখনই সময়’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে বাদীর ওই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মাহবুবা খাতুন নীলা বাদী হয়ে গত ৪ জুন ২০২৬ তারিখে বোয়ালিয়া মডেল থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ২৫ ধারাসহ দণ্ডবিধির ৩৮৫, ৩৮৬, ৫০০ ও ৫০৬ ধারায় মামলা দায়ের করেন (মামলা নং–৭)। ফেসবুকের ওই আইডির নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে দীর্ঘদিন ধরেই তৎপরতা চালাচ্ছিল পুলিশের সাইবার ইউনিট।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মিডিয়া মুখপাত্র ও উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) গাজিউর রহমান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, একজন নারীর দায়ের করা মামলায় সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে কাচুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাচু দীর্ঘদিন ধরে তালাইমারী এলাকার মাসুদ রানা রাব্বানীর ‘বাংলার বিবেক’ পত্রিকার কথিত সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, বহুল আলোচিত ডলফিন ক্লিনিকে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট, ডাকাতি, একাধিক ছিনতাই এবং চুরির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও মামলা রয়েছে।
এর আগেও এক সাংবাদিকের পরিবারকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর পোস্ট দেওয়ায় সাইবার নিরাপত্তা আইনে কাচুকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছিল পুলিশ। পরবর্তীতে ভবিষ্যতে এমন অপরাধ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই পরিবারের কাছে ক্ষমা চাইলে মানবিক বিবেচনায় আদালত থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল।
তবে কারাগার থেকে জামিনে বেরিয়ে তিনি আবারও অপরাধে জড়ান। সম্প্রতি ‘এখনই সময়’ আইডি ব্যবহার করে রাজশাহী প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর সবুর, সহ-সভাপতি শাহরিয়ার অন্তু, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন, যুগ্ম সম্পাদক মো. নুরে ইসলাম মিলন, দপ্তর সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন বাবু, পাঠাগার সম্পাদক মো. সুরুজ আলী, কার্যনির্বাহী সদস্য রাজিব আলী রাতুল, রাউফ উদ্দিন রাফি ও মাজারুল ইসলাম চপলসহ রাজশাহীর একাধিক সিনিয়র সাংবাদিকের নামে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর পোস্ট দিয়ে আসছিলেন তিনি। এ বিষয়ে বিভিন্ন থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের পক্ষ থেকেও পৃথক মামলার প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে চিহ্নিত এ অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসায় রাজশাহী প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আরএমপি পুলিশ কমিশনার, বোয়ালিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), ওসি (তদন্ত), সেকেন্ড অফিসারসহ গ্রেপ্তার অভিযানে অংশ নেওয়া সকল পুলিশ সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।