বেনাপোল স্থলবন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ (EIA)’ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এক সুশীল সমাজ, স্থানীয় বাসিন্দা ও জমির মালিকদের সাথে গণশুনানি এবং জনমত যাচাই সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর, ২০২৬) বিকেল ৪:৩০ ঘটিকায় বেনাপোল চেকপোষ্টে প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের ২য় তলায় অবস্থিত বেনাপোল স্থলবন্দর কার্যালয়ের সভাকক্ষে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ‘বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ’ ও ‘পরিবেশ অধিদপ্তর’ যৌথভাবে এই সভার আয়োজন করে।
নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের “Accelerating Transport and Trade Connectivity in Eastern South Asia (ACCESS)-Bangladesh Phase-1 (BLPA Component)” প্রকল্পের আওতায় এই জনমত যাচাই সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (যুগ্মসচিব) জনাব মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ”বেনাপোল স্থলবন্দর দেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক প্রবেশদ্বার।
এই বন্দরের আধুনিকায়ন ও আঞ্চলিক বাণিজ্য সংযোগ বৃদ্ধি করতে একসেস (ACCESS) প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। উন্নয়ন কাজের পাশাপাশি পরিবেশের যেন কোনো ক্ষতি না হয় এবং স্থানীয় অধিবাসীরা যেন কোনো ক্ষতির সম্মুখীন না হন, সেদিকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সকলের মতামত বিবেচনা করেই এই পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হবে।”
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেনাপোল স্থলবন্দরের উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) জনাব মোহাম্মদ রুহুল আমীন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যশোর পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জনাব মোহাম্মদ আতাউর রহমান।
কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, বিশ্বমানের বন্দর সুবিধা নিশ্চিতের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষা ও টেকসই উন্নয়ন বজায় রাখাই এ সভার মূল উদ্দেশ্য।
সভায় অংশগ্রহণকারী স্থানীয় জমির মালিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা তাদের বিভিন্ন মতামত ও দাবি তুলে ধরেন।
জমির মালিকরা বলেন,
*জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত ও সঠিক বাজারমূল্যে ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে।
*উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে যারা বসতবাড়ি বা কৃষিজমি হারাচ্ছেন, তাদের টেকসই পুনর্বাসন এবং প্রকল্পের কাজে স্থানীয়দের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়ার জোর দাবি জানান তারা।
সভায় প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কনসালটেন্ট ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। এতে বন্দরের নিরাপত্তা বৃদ্ধি, পণ্য খালাসের সময় কমানো এবং পরিবেশগত ঝুঁকি হ্রাসের বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।
উক্ত গণশুনানিতে বেনাপোল স্থলবন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, কাস্টমস প্রতিনিধি, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।