প্রথম বাংলা : ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় ফেসবুক লাইভে বিএনপি সরকারকে নিয়ে সমালোচনার অভিযোগে আটক সাথী আক্তারকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। তবে তার ফেসবুক লাইভের ভিডিও চারবার পর্যালোচনা করেও সরকারবিরোধী কোনো বক্তব্য পাননি বলে জানিয়েছেন ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয় বলে জানান ওসি।

গ্রেপ্তার সাথী আক্তার (৩০) ভালুকা উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দা আমজাদ আলীর মেয়ে। তিনি এলাকায় ‘সাথী বিউটি পার্লার’ নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, রোববার (২৫ অক্টোবর) বেলা ২টার দিকে ‘সাথী মেকওভার’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে দুটি লাইভ ভিডিও প্রকাশ করেন সাথী আক্তার। পাঁচ মিনিট ২২ সেকেন্ড এবং আট মিনিট আট সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। একপর্যায়ে তাকে বলতে শোনা যায়, বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়া আজকে ভুক্তভোগী।

ভিডিও দুটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। পরে কয়েকজন নেতাকর্মী ও স্থানীয় ব্যক্তি তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ঘেরাও করে ঘটনার বিচার দাবি করেন। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়।

পরে রোববার রাত ৮টার দিকে উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকা থেকে একদল লোক সাথী আক্তারকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

ভালুকা মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, তিনি সাথী আক্তারের ফেসবুক লাইভের সম্পূর্ণ ভিডিও চারবার পর্যালোচনা করেছেন। কিন্তু সেখানে সরকারবিরোধী কোনো বক্তব্য কিংবা সরকারের সমালোচনামূলক কিছু পাননি।

ওসি আরও বলেন, ওই নারী ভিডিওতে যা বলেছেন, তা তার বাকস্বাধীনতার মধ্যে পড়ে। সম্পূর্ণ ভিডিও না দেখে গুজবের কারণে ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে ওসির ভাষ্য অনুযায়ী, ভিডিও প্রকাশের পর মার্কেটের কয়েকজন ব্যবসায়ী সাথী আক্তারের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি তাদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন। এতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধের জন্য তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় প্রসিকিউশন দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ওসি জানান, জামিনে মুক্ত হয়ে ফিরে এলে ওই নারীর ব্যবসা পরিচালনায় কোনো সমস্যা হবে না বলে মার্কেটের ব্যবসায়ীরা তাকে আশ্বস্ত করেছেন।

ময়মনসিংহ আদালত পরিদর্শক পি এস এম মোস্তাছিনুর রহমান বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারা পুলিশের একটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। কোনো ব্যক্তি আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটনের পরিকল্পনা করছেন বলে পুলিশের সন্দেহ হলে এবং সেই অপরাধ প্রতিরোধের প্রয়োজন দেখা দিলে আইন অনুযায়ী তাকে গ্রেপ্তার করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে পুলিশ বাদী হয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয়।

তিনি আরও বলেন, সাথী আক্তার জামিন পাবেন কি না, তা পুলিশের ফরওয়ার্ডিং প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিচারক সিদ্ধান্ত নেবেন। প্রতিবেদন বিবেচনায় বিচারক চাইলে তাকে জামিন দিতে পারেন, আবার জামিন আবেদন নামঞ্জুরও করতে পারেন।

ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেসবুক লাইভে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, গুজব এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন সামনে এনেছে।

একদিকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি রয়েছে, অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, সাথী আক্তারের লাইভ ভিডিওতে সরকারবিরোধী বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনাটির প্রকৃত প্রেক্ষাপট, উত্তেজনা সৃষ্টির কারণ এবং আইনি পদক্ষেপের যথার্থতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট তথ্য ও আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।