
রাজশাহী নগরের রেলগেট এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান চালিয়ে কয়েকটি দোকান উচ্ছেদ করেছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক)। এতে দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাতে ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
উচ্ছেদ অভিযানের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এক তরুণকে বলতে শোনা যায়, ‘আগে কাজ দেন, তারপর দোকান ভাঙেন।’ ভিডিওটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
রাসিকের উদ্যোগে অবৈধ স্থাপনা ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযানের অংশ হিসেবে রেলগেট এলাকায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কার্যালয়সংলগ্ন ফুটপাতের কয়েকটি দোকান ভেঙে দেওয়া হয়। এতে জীবিকা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ওই সব দোকানের ব্যবসায়ীরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এক তরুণকে নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরতে দেখা যায়। তিনি বলেন, ফুটপাতে ব্যবসা করেই তাঁর বাবা তাঁকে পড়াশোনা করিয়েছেন। পড়াশোনা শেষ করে চাকরি না পেয়ে এখন তিনি নিজেই একটি ছোট দোকান চালান। এই দোকানের আয়েই চলে তাঁদের সংসার। তাঁর বাবা একজন প্রতিবন্ধী মানুষ। দোকান থেকে যা আয় হয়, তার বেশির ভাগই বাবার ওষুধ কেনার পেছনে ব্যয় করতে হয়। তাই দোকান উচ্ছেদের আগে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।
ভিডিওতে এক বয়স্ক নারীও উচ্ছেদের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করে তাঁরা সংসার চালান। দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে ওই স্থানে ব্যবসা করছেন তাঁরা। দোকান ভেঙে দেওয়ায় এখন কীভাবে সংসার চালাবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। কথা বলতে বলতে একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একদিকে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার প্রয়োজনীয়তা, অন্যদিকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকা ও বিকল্প কর্মসংস্থানের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
দীর্ঘদিন ধরে রেলগেট এলাকায় ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করা ব্যবসায়ীরা মানবিক দিক বিবেচনায় তাঁদের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। তাঁদের দাবি, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার উদ্যোগের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান বা ব্যবসার উপযুক্ত জায়গার ব্যবস্থা করা হোক।