
খান মেহেদী :- গত আগস্টে ছাত্রদের নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের ফলে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয় এবং শেখ হাসিনা ভারতে যান। পরে নতুন অন্তর্বর্তী সরকার ছাত্রলীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করার পর হাজারো ছাত্র এখন সহিংসতা, গ্রেফতার ও প্রতিশোধের ভয়ে জীবন যাপন করছেন।
গত বুধবার ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ছাত্রলীগকে একটি ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণা করে। সরকার বলেছে, ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে সহিংসতা, হয়রানি ও গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ রয়েছে।
গত ৫ আগস্ট প্রতিবাদী ছাত্র-জনতা শেখ হাসিনার বাসভবন, সংসদ ভবনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলোয় হামলা চালান। ৭৭ বছর বয়সী প্রধানমন্ত্রী একটি সামরিক হেলিকপ্টারে করে দেশ ছেড়ে যান। হাসিনার পতনের পর ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের শত শত সদস্য ও রাজনীতিবিদরা হামলার শিকার হন। অনেকে আত্মগোপনে চলে যান। কিংবা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে আটক হন।
ক্যাম্পাসে পা রাখলে নানা অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় অথবা আমাকে মারধর করা হয়।
আওয়ামী লীগের আনুমানিক ৫০ হাজার ছাত্র এখন অচলাবস্থায় ভুগছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেত্রী শাহরিন আরিয়ানা। পরিবার বলেছে, ১৮ অক্টোবর তাঁকে ‘ভুয়া’ অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে।
টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা দিতে গিয়ে শাহরিন আটক হন। একই দিন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক ছাত্রলীগ নেতা সৈকত রায়হানকে গ্রেফতার করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবর রহমান জানান, ছাত্রলীগের কোনো নেতার সঙ্গে পরীক্ষায় বসতে রাজি হননি অন্য শিক্ষার্থীরা। এজন্য তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ২৫ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিতে এসে আরো দুই ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার হন—ফিন্যান্সের ছাত্র আবুল হাসান সাইদী এবং নৃবিজ্ঞানের ছাত্র কাজী শিহাব উদ্দিন তৈমুর।
প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। সে অনুযায়ী তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঢেউ ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শামীম আহমেদকে ১৮ সেপ্টেম্বর পিটিয়ে হত্যা করা হয় এবং ৭ সেপ্টেম্বর রাজশাহীতে মাসুদ নামে এক ছাত্রলীগ নেতা নিহত হন।
ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে এবং ২৩ অক্টোবর এক গেজেটে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে (২০০৯) ছাত্রলীগকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করে।
ছাত্রলীগ নিষিদ্ধের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ অন্যান্য সংগঠনের নেতৃত্বে দেশব্যাপী বিক্ষোভের পর এই সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।