
বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি :- রাতের আধারে দাড়িপাল্লার পক্ষে ভোট কেনার সময় টাকাসহ সাবেক এক চেয়ারম্যানকে অবরুদ্ধ করেছিল স্থানীয়রা। পরে তার কাছ থেকে বিতরনের উদ্দেশ্যে রাখা ৭০ হাজার ৭০০টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের পরোক্ষ সহযোগিতায় ওই চেয়ারম্যানকে বিএনপির নেতাকর্মীরা তার বাড়িতে পৌছে দিয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার রাতে সাড়ে ১১ টার দিকে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার পাদ্রিশিবপুর ইউনিয়নের মোল্লাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের পাশে। টাকাসহ অবরুদ্ধ হওয়া ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া গেছে। তার নাম সাজ্জাদ হোসেন মোল্লা। তিনি পরপর তিনবারের পাদ্রিশিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। এছাড়াও তিনি বাকেরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। ২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বর তিনি বিএনপি ছেড়ে জাতীয় পার্টিতে যোগদেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি নাঙ্গল প্রতিকের নির্বাচনে প্রচারণায় অংশ নেন।
উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক সাইফুল ইসলাম আকন মুঠোফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, ঘটনাস্থল থেকে তার বাড়ি প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে। মঙ্গলবার মাগরিবের নামাজের পর পাদ্রিশিবপুর বিভিন্ন ওয়ার্ডে সাবেক চেয়ারম্যান জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে ভোট কিনছেন বলে এলাকায় তথ্য ছড়িয়ে পড়ে।
সাইফুল ইসলাম আকন বলেন, এমন তথ্যের ভিত্তিতে স্থানীয়রা এলাকায় এলাকায় টহল শুরু করেন। রাত পৌনে ১১টার দিকে তাদেরই একটি টহলদল শরীফ বাড়ির সামনে তিন ব্যক্তিকে দেখতে পান। তাদের দেখেই দুজন পালিয়ে যান। অপরজন সাজ্জাদ মোল্লাকে তারা ধরে ফেলেন।
তাকে স্থানীয় সুলতান শরীফের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। অসুস্থতার ভান করে তিনি সেখানে ঘাটে শুয়ে পরেন। একইসঙ্গে বলেন, জামায়াতের পক্ষে এই রাতে তার ভোট চাওয়া ঠিক হয়নি। খবর পেয়ে পাদ্রিশিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফারুক মৃধা ছুটে আসেন। তখন স্থানীয়রা সাজ্জাদ মোল্লার সঙ্গে থাকা একশ টাকা মূল্যের ৭০ হাজার ৭০০ টাকা উদ্ধার করে ফারুক মৃধার জিন্মায় রাখেন।
পাদ্রিশিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফারুক মৃধা বলেন, বিষয়টি তখনই পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল। ওসি সাহেব বলেছেন, সাজ্জাদ মোল্লা সাবেক জনপ্রতিনিধি, তাকে তার বাসায় পৌছে দিবেন। টাকার বিনিময়ে ভোট কেনার তথ্য সঠিক হলে ওটা ওনার (সাজ্জাদ) জন্য অবমাননাকর। নির্বাচনী কাজে ব্যক্তি থাকায় ওই রাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। তাই সাজ্জাদ মোল্লাকে দলীয় নেতাকর্মীরা তার বাসায় রাতেই পৌছে দিয়েছেন।
সাজ্জাদ হোসেন মোল্লা বলেন, ভোটের পরিস্থিতি কেমন তা জানতে তিনি সুলাত শরীফের বাড়িতে গিয়েছিনে। কিন্তু শরীর ক্লান্ত থাকায় তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঘুম ভাঙ্গে। তখন ওই বাড়ির লোকজনদেরকে একটি ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল আনার জন্য বলেন। সেই বাইকে করে তিনি বাড়িতে ফিরতে চাচ্ছিলেন।
রাতে মোটরসাইল না পেয়ে দুইজনকে সঙ্গে নিয়ে তিনি সুলতার শরীফের বাসা থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে আসছিলেন। তখন ফারুক মৃধা, কাজী বশির সহ কয়েকজন তাকে আবার সুলতানের বাসায় নিয়ে যান। সেই বাসার ঘাটের পাশ থেকে বেশকিছু একশ টাকার নোট উদ্ধার করেন। সেই টাকা আমি জামায়াতের প্রার্থী পক্ষে ভোট কেনার কাজে বিলি করার জন্য রেখেছি বলে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন।
সাজ্জাদ মোল্লা আরো বলেন, আমি জুলাই বিপ্লবের পর বিএনপিতে যোগদানের চেষ্টা করেছি। কিন্তু বিএনপির প্রার্থী আবুল হোসেন খান আমাকে দলে জায়গা দেয়ননি। আমি জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছি বলে বিএনপির একটি পক্ষ দাবী করছে।