| ২৮শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |১লা রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি September 12, 2026, 8:12 pm
Title :
দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত বেড়েছে। মন্তব্য কলাম: এভাবে আর কোনো পুলককে গণমাধ্যম অঙ্গন থেকে হারাতে চাই না কেরানীগঞ্জে সরকার সিটি হাউজিং বিরুদ্ধে কৃষকের জমি দখলের অভিযোগ,,দাদীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হোক কালিয়াকৈরে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত২৫ শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা প্রদান। দিনাজপুর বীরগঞ্জে নবনির্মিত মৈত্রী সেতুর উদ্বোধন খুলে গেল যোগাযোগের নতুন দুয়ার দিনাজপুর বীরগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৫ নেশাখোরের ৬ মাস করে কারাদণ্ড । দুর্নীতির বিরুদ্ধে হোক প্রতিবাদ কালিয়াকৈরে ভ্রাম্যমান আদালত কর্তৃক ৩ যুবকের সাজা। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ, করলেন দিনাজপুর-১ এমপি আলহাজ্ব মো মনজুরুল ইসলাম। লামায় পাহাড় কাটা বন্ধে হাইকোর্টের ৩ দিনের নির্দেশ ইটভাটার মাটির জোগানে পাহাড় ধ্বংসের অভিযোগ, প্রশাসনের সঙ্গে মনিটরিং টিম

মন্তব্য কলাম: এভাবে আর কোনো পুলককে গণমাধ্যম অঙ্গন থেকে হারাতে চাই না

নিজস্ব প্রতিবেদন
  • Update Time : শনিবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
  • 3 Time View

এভাবে আর কোনো পুলককে গণমাধ্যম অঙ্গন থেকে আমরা হারাতে চাইনা। দেশের অরক্ষিত গণমাধ্যম, অনিশ্চিত সাংবাদিকতা এবং আমাদের গণমাধ্যম ও রাষ্ট্রযন্ত্রের দায় এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয় । একজন সাংবাদিক যখন আত্মহত্যার পথ বেছে নেন, তখন সত্যিই আর কিছু বলার থাকে না। তবে কিন্তু কিছু প্রশ্ন থেকে যায়। যে প্রশ্নগুলো এড়িয়ে যাওয়ার আদৌ সুযোগ নেই। বরং একজন সাংবাদিকের এমন করুণ মৃত্যু আমাদের গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতা অঙ্গনের ভেতরে জমে থাকা অদৃশ্য সংকটগুলো নতুন করে সামনে এনে দেয়। পারবে রাষ্ট্র কি পারবে গণমাধ্যম অঙ্গনের এই অসঙ্গতি গুলো পুরোপুরি সমাধান দিতে? পুলক চ্যাটার্জী হয়তো চেয়েছিলেন বরিশালে সমকাল অফিসের মধ্যে আত্মাহুতি দিয়ে গোটা গণমাধ্যম অঙ্গনকে মুক্তি দিতে। সাংবাদিকরা কী পারবে তার সেই আত্মাহুতির অনুভূতি টের পেতে? তিনি চিরকুটে লেখে গেছেন তার সেই অনুভূতি গুলো। এখন দরকার সেই অনুভূতি গুলো নিয়ে আলোচনা করা, সমস্যার সমাধানে কাজ করা।

বরিশালের সিনিয়র সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যু তেমনই এক কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে আমাদের। পুলক চ্যাটার্জি ছিলেন দৈনিক সমকালের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বরিশালের ব্যুরো প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা একজন অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী। তিনি বরিশাল প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং ন্যাশনাল ডেইলিজ ব্যুরো চীফ অ্যাসোসিয়েশন-এনডিবিএ’র স্থানীয় সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তিনি ছিলেন সাহসী, স্পষ্টবাদী ও দায়িত্বশীল কলমযোদ্ধা।

শুক্রবার সন্ধ্যায় বরিশাল নগরীর প্যারারা রোডে দৈনিক সমকালের বরিশাল ব্যুরো কার্যালয় থেকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও এর প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। ঘটনাস্থলের ছবি, মরদেহের অবস্থান এবং তার রেখে যাওয়া সুইসাইড নোটকে ঘিরে যেসব প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলোরও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। কোনো ছবি বা প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সাংবাদিকতার নীতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। কিন্তু একটি মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্তে নির্ধারিত হবে এটি যেমন সত্য, তেমনি সেই মৃত্যু আমাদের সামনে যে বৃহত্তর প্রশ্নগুলো রেখে যায়, সেগুলো নিয়েও গণমাধ্যম অঙ্গনের সাথে জড়িতদের কথা বলা জরুরি।

বলুনতো, একজন সাংবাদিকের চাকরি কি শুধু একটি পদ? চাকরি হারানোর পর একজন দীর্ঘদিনের পেশাজীবীর জীবনে কী ধরনের আর্থিক, সামাজিক ও মানসিক সংকট তৈরি হতে পারে তা গোটা দেশের সামনে পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যু সেই প্রশ্নটি নির্মমভাবে সামনে এনেছে। গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে একজন সাংবাদিকের চাকরি অনেকের কাছে হয়তো একটি পদ, একটি বেতন কিংবা একটি কর্মসংস্থান। কিন্তু একজন সাংবাদিকের কাছে চাকরিটি তার পেশাগত পরিচয়, পরিবারের জীবিকা, সন্তানের ভবিষ্যৎ এবং সামাজিক মর্যাদার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। বিশেষ করে দীর্ঘদিন একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করার পর হঠাৎ চাকরি হারানো একজন সাংবাদিকের জন্য শুধু কর্মহীন হয়ে পড়া নয়; এটি অনেক সময় তার সমগ্র জীবনব্যবস্থাকে নাড়িয়ে দিতে পারে। গতকাল পুলক চ্যাটার্জীর মৃত্যুর পর থেকে বরিশাল সহ সারাদেশের সাংবাদিকদের মাঝে চাপা ক্ষোভ এবং উত্তেজনা লক্ষ্য করা গেছে।

তাই প্রশ্ন উঠতেই পারে- কোনো গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান নিয়মনীতি উপেক্ষা করে একজন সাংবাদিককে চাকরিচ্যুত করার আগে কি একবারও ভাবেন, এই সিদ্ধান্তের পর তার পরিবার কীভাবে চলবে? তার সন্তানদের পড়াশোনা কীভাবে হবে? বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, ঋণ কিংবা নিত্যদিনের প্রয়োজন মেটানোর ব্যবস্থা কী? চাকরি দেওয়া এবং চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনার স্বাভাবিক এখতিয়ার হতে পারে। কিন্তু সেই এখতিয়ারের সঙ্গে কি কোনো মানবিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতা থাকবে না? একজন হোটেল কর্মচারী মুদি দোকানের সেলসম্যানের বা গার্মেন্টসের শ্রমিকদের চাকরিটি কিন্তু তাৎক্ষণিক হারানোর সম্ভাবনা নেই। অথচ সাংবাদিকদের চাকরি হারানো সহজ যেন কচুপাতার পানি। এখানে নেই কোনও মানবতা বা দরদ। আছে শুধু স্টিমরোলার।

আমাদের দেশের সাংবাদিকরা সবচেয়ে অরক্ষিত যোদ্ধা। যেমন মিডিয়া অঙ্গনে নিরাপত্তা নেই ; তেমনি নেই বাইরের নিরাপত্তা। যেনো উভয় সঙ্কটাপন্ন। দেশের গণমাধ্যমের বড় একটি অংশের সংবাদ সংগ্রহ হয় মফস্বল থেকে। মফস্বলে কর্মরত সাংবাদিকদের একটি বড় অংশই সবচেয়ে বেশি আর্থিক ও পেশাগত অনিশ্চয়তার মধ্যে কাজ করেন। এদের ৯০ ভাগ সাংবাদিকের নেই বেতন, ভাতা, রেশন, পেনশন শুধুই টেনশন। অথচ, ওয়েজবোর্ড নামের সোনার হরিনের সাথে দেখা মেলেনা-কারোরই।

একজন সাংবাদিক প্রতিদিন সংবাদ সংগ্রহে বের হন নিজের খরচে। তার মোবাইল বিল আছে, ইন্টারনেট বিল আছে, যাতায়াতের খরচ আছে। কখনো ইউনিয়ন পরিষদ, কখনো উপজেলা, কখনো জেলা শহর, কখনো আদালত, হাসপাতাল কিংবা দুর্গম কোনো এলাকায় ছুটতে হয় তাকে। তার নিজের সংসার আছে। সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ আছে। চিকিৎসা, বাড়িভাড়া, খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় আছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই সাংবাদিকের আয় কোথা থেকে আসবে? অনেক ক্ষেত্রেই মফস্বল সাংবাদিকরা নিয়মিত ন্যূনতম সম্মানী পর্যন্ত পান না। অথচ প্রত্যাশার যেন শেষ নেই নিউজ দাও, বিজ্ঞাপন দাও, প্রচার বাড়াও।

একজন সাংবাদিকের শ্রমের মূল্য কত? তার মাসিক আয় কত? তার কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা কী? অসুস্থ হলে কী হবে? চাকরি চলে গেলে কী হবে? দীর্ঘদিন কাজ করার পর অব্যাহতি পেলে তার পাওনা কীভাবে পরিশোধ হবে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর কি গণমাধ্যম ব্যবস্থার কাছে আছে? পত্রিকার ব্যবসা থাকবে, সাংবাদিকের অধিকারও থাকতে হবে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ব্যবসা করবে, বিনিয়োগ করবে, লাভ করবে এটি স্বাভাবিক। সংবাদপত্র ও মিডিয়া প্রতিষ্ঠানকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী এবং মানবিক হওয়াও জরুরি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সেই অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ সাংবাদিক ও কর্মীদের অধিকার কেন অনিশ্চিত থাকবে?

কোনো কোনো গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান বড় অঙ্কের ব্যবসা ও আর্থিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। গণমাধ্যমের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ কেউ বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা বা ঋণও পেয়ে থাকে এমন অভিযোগ ও আলোচনা সমাজে রয়েছে। এসব বিষয়ে অবশ্যই সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আলোচনা হওয়া উচিত। কিন্তু বিপরীত চিত্রটি আরও বেদনাদায়ক। একদিকে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান কোটি কোটি টাকার আর্থিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারে, অন্যদিকে সেই প্রতিষ্ঠানের মাঠপর্যায়ের একজন সাংবাদিক তার মাসিক মোবাইল বিল কিংবা যাতায়াত খরচ মেটাতে হিমশিম খান। এই বৈপরীত্য কি আমাদের বিবেককে প্রশ্ন করে না? সাংবাদিকতা কি শুধু দায়িত্ব, নাকি পেশাও? সাংবাদিকের কাছে সাংবাদিকতা একটি দায়িত্ব এ কথা সত্য। কিন্তু সাংবাদিকতা একই সঙ্গে একটি পেশাও। আর কোনো পেশাজীবীকে তার শ্রমের ন্যায্য মূল্য ছাড়া দীর্ঘদিন কাজ করিয়ে নেওয়া হলে সেখানে পেশাগত ন্যায়বিচারের প্রশ্ন উঠবেই।

আমাদের দেশে সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত মানুষের সংখ্যা কম নয়। কিন্তু কতজনের হাতে বৈধ নিয়োগপত্র আছে? কতজন নিয়মিত বেতন পান? কতজনের চাকরির সুনির্দিষ্ট শর্ত আছে? কতজন চাকরি হারালে ন্যায্য পাওনা পান? কতজন অবসরের পর কোনো নিরাপত্তা পান? এসব প্রশ্নের একটি শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও সর্বজনগ্রাহ্য কাঠামো এখনই প্রয়োজন। এজন্য দরকার একটি স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন। তবে তা আদৌ কি হবে? এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নিয়োগ, পদায়ন, চাকরিচ্যুতি ও পেশাগত মূল্যায়নে স্বচ্ছতার প্রশ্ন। কখনো রাজনৈতিক বিবেচনা, কখনো মালিকানা পরিবর্তন, কখনো ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত, আবার কখনো কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই সাংবাদিক চাকরি হারাতে পারেন এমন অভিযোগ রয়েছে। গণমাধ্যম স্বাধীন হবে এটি যেমন জরুরি, তেমনি গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকও যেন নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে পারেন, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজন সাংবাদিক সুরক্ষার জাতীয় নীতিমালা রাষ্ট্র সাংবাদিকের হয়ে সংবাদ লিখবে না। সম্পাদকীয় নীতিতে হস্তক্ষেপ করবে না। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করবে না। কিন্তু রাষ্ট্র এমন একটি নীতিগত কাঠামো তৈরি করতে পারে, যেখানে সাংবাদিকের শ্রমের মূল্য, চাকরির ন্যায্যতা, পাওনা পরিশোধ, বৈষম্যহীনতা এবং ন্যূনতম পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। একজন সাংবাদিককে অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়া হলে তার প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ থাকতে হবে। দীর্ঘদিন কাজ করা একজন সাংবাদিক হঠাৎ চাকরিচ্যুত হলে তার পাওনা, নোটিশ, ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসনের বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা থাকতে পারে। পুলক চ্যাটার্জিকে চাকুরীচ্যুতি করার পর সমকাল কেন তার বেতন ভাতা পরিশোধ করলেন না এটি কি একজন সাংবাদিকের সাথে অন্যায় এবং দণ্ডনীয় অপরাধ নয়? প্রতিটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব মানবসম্পদ নীতিও শক্তিশালী হওয়া দরকার। নিয়োগপত্র, নির্ধারিত বেতন-ভাতা, ছুটি, কর্মঘণ্টা, চাকরিচ্যুতির স্বচ্ছ প্রক্রিয়া, ন্যায্য পাওনা, কর্মক্ষেত্রে হয়রানি ও বৈষম্য প্রতিরোধ এবং সংকটকালে সহায়তার ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানসিক স্বাস্থ্যকে আর অবহেলার বিষয় হিসেবে দেখা যাবে না।

চাকরি হারানো, দীর্ঘদিন বেতন না পাওয়া, আর্থিক সংকট, কর্মস্থলের চাপ কিংবা পেশাগত অপমান একজন মানুষের ওপর গভীর মানসিক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজন হলে কাউন্সেলিং ও সংকটকালীন সহায়তার ব্যবস্থাও রাখা উচিত। পুলকের মৃত্যু যেন শুধু শোকের খবর হয়ে না থাকে
পুলক চ্যাটার্জির চলে যাওয়া নিয়ে আবেগ থাকবে, শোক থাকবে, সহকর্মীদের চোখে পানি থাকবে। কয়েকদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে লেখা হবে। তারপর হয়তো আমরা আবার আগের মতো ব্যস্ত হয়ে পড়ব। তবে পুলক চ্যাটার্জীর মৃত্যুর শোককে শক্তিতে পরিণত করে গণমাধ্যম অঙ্গনকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

পুলক চ্যাটার্জীর শোক আর শেষকৃত্য কিন্তু এখানেই শেষ হওয়া উচিত নয়। তার মৃত্যু আমাদের গণমাধ্যমের
জন্য একটি সতর্কবার্তা। মিডিয়ায় কাজ করা এমন হাজারো ‘পুলক’ হয়তো আজ নীরবে-নিভৃতে দগ্ধ হচ্ছেন। কেউ চাকরি হারানোর আতঙ্কে, কেউ বেতন-সম্মানীর অনিশ্চয়তায়, কেউ পারিবারিক সংকটে, কেউ পেশাগত অবমূল্যায়নে, আবার কেউ ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন। আমরা তাদের কতজনের খবর রাখি বা রাখছেন? প্রতিনিয়ত আমার কাছে সারাদেশের বিভিন্ন সাংবাদিকের নানা কষ্ট গাঁথা বেদনাদায়ক গল্প শোনতে হয়, শুনছি। কিন্তু কিছু করতে পারছিনা, সংকট চারিদিকে। কারো বেতন নেই, কারো চাকরি নেই কাউকে ডেক্স থেকে চাকরিচ্যুতির ভয় দেখানো হচ্ছে, কত কি? গণমাধ্যমের মালিক পক্ষ তৃণমূলের সাংবাদিকদের বেতন ভাতা না দিতে সেন্ট্রাল ডেস্কে অপ্রয়োজনীয় লোকজন-ক্যাডার নিয়োগ দিয়ে হয়রানি করছেন, এমন মিডিয়ার সংখ্যাও কম নেই।
একজন সাংবাদিককে শুধু সংবাদ সংগ্রহের সময় প্রয়োজন হয় না। তার প্রয়োজন হয় নিরাপদ কর্মপরিবেশ, ন্যায্য পারিশ্রমিক, সম্মান, চাকরির নিশ্চয়তা এবং বিপদের সময়ে সহায়তার হাত।

আমরা কি এমন একটি গণমাধ্যম চাই, যেখানে সাংবাদিক প্রয়োজনের সময় গুরুত্বপূর্ণ, আর প্রয়োজন শেষ হলে পরিত্যক্ত? নাকি এমন একটি গণমাধ্যম চাই, যেখানে মালিক ও সাংবাদিকের মধ্যে পেশাগত সম্পর্কের পাশাপাশি মানবিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতাও থাকবে? সময় এসেছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার। এতটুকুও জানি যে, আমার এ লেখাটি অনেক মিডিয়ার কাছে খারাপ লাগবে, গাত্রদাহ হবে তাই ছাপাবেন না, তবুও না বলা কথা গুলো লিখতে বাধ্য হলাম এবং লিখবো। তবে পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্তে বেরিয়ে আসুক। সত্য যা-ই হোক, তা জাতির সামনে স্বচ্ছভাবে প্রকাশিত হোক। কিন্তু একই সঙ্গে তার মৃত্যু যে প্রশ্নগুলো সামনে এনেছে, সেগুলোও জাতীয় আলোচনার বিষয় হোক। কীভাবে আমাদের অরক্ষিত গণমাধ্যম অঙ্গনকে সুরক্ষিত করা যায়? কীভাবে সাংবাদিকতার কর্ম এবং এই পেশাটিকে রক্ষা করা যায়? এখনই সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে। রাষ্ট্রকে নীতিমালা করতে হবে, গণমাধ্যম মালিকদের দায়িত্বশীল হতে হবে, সম্পাদকদের মানবিক হতে হবে এবং সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে শুধু প্রতিবাদ-বিবৃতিতে সীমাবদ্ধ না থেকে সাংবাদিকদের জন্য কার্যকর নিরাপত্তাবলয় গড়ে তুলতে হবে, সাংবাদিক সংগঠনের নামে দোকানদারি করলে চলবেনা। কারণ আর কোনো সাংবাদিক যেন পেশাগত অনিশ্চয়তা, আর্থিক সংকট, চাকরি হারানোর ভয় কিংবা একাকিত্বের অন্ধকারে হারিয়ে না যান। আর কোনো পুলক চ্যাটার্জিকে আমরা হারাতে চাই না।

মনে রাখা উচিত, সাংবাদিক বাঁচলে সাংবাদিকতা বাঁচবে। সাংবাদিকতা বাঁচলে গণমাধ্যম বাঁচবে। আর গণমাধ্যম বাঁচলে মানুষের কথা বলার শক্তিটুকুও বেঁচে থাকবে, গণতন্ত্র রক্ষা পাবে।

লেখক: আহমেদ আবু জাফর, চেয়ারম্যান, ট্রাস্টি বোর্ড, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ও সভাপতি, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রী: ০১৭১২৩০৬৫০১।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category