
নিজস্ব প্রতিবেদক,পটুয়াখালীঃ একজন ছাত্রের কাছে তার শিক্ষা জীবনই সবচেয়ে বড় সম্পদ। কিন্তু আদর্শের লড়াই আর রাজপথের সংগ্রাম যখন জীবনের চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়ায়, তখন বিসর্জন দিতে হয় অনেক কিছুই। পটুয়াখালীর, মির্জাগঞ্জের ১নং মাধবখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মোঃ রাজিব হোসেন পাশা এর ক্ষেত্রেও ঘটেছে ঠিক তাই। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে জাতীয়তাবাদী আদর্শের রাজনীতি করতে গিয়ে তিনি সময়মতো এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, তবুও দমে যাননি এই লড়াকু সৈনিক।
শিক্ষার চেয়ে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের আন্দোলন: রাজিবের পারিবারিক ও রাজনৈতিক সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সাল থেকে তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত। ২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে তিনি যখন কাঠালতলী ও নিউ মার্কেটের রাজপথ কাঁপাচ্ছিলেন, তখন তার সহপাঠীরা ব্যস্ত ছিল পড়াশোনায়। রাজনৈতিক মামলা, হামলা আর ফেরারি জীবনের কারণে নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া তার জন্য এক প্রকার অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে ঠিক সময়ে তার এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়া আর হয়ে ওঠেনি।
কষ্টের মাঝেও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার লড়াই: রাজনীতি করতে গিয়ে রাজিবকে বারবার আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। সুবিদখালীতে সাবেক মন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরীর গাড়ি বহরে থাকা অবস্থায় বর্বরোচিত হামলায় আহত হওয়া কিংবা রাজনৈতিক সংঘর্ষের জেরে মোটা অঙ্কের আর্থিক জরিমানা—সব মিলিয়ে তার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়ে। তবে শিক্ষার প্রতি প্রবল আগ্রহ থেকে তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এইচএসসি সম্পন্ন করার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন।
তৃণমূলের আস্থার প্রতীক: মাধবখালী ইউনিয়নের সাধারণ কর্মীরা জানান, রাজিবের মতো ত্যাগী কর্মী খুব কমই আছে। নিজের শিক্ষা জীবন ও ব্যক্তিগত সুখ বিসর্জন দিয়ে যিনি বছরের পর বছর দলের ঝান্ডা ধরে রেখেছেন, তিনিই নেতৃত্বের যোগ্য দাবিদার। ২০২৩ সালের ঢাকার মহাসমাবেশ থেকে শুরু করে বরিশালের তারুণ্যের সমাবেশ—সবখানেই রাজিবের উপস্থিতি ছিল নজরকাড়া।
রাজিব হোসেন পাশার বক্তব্য: এ বিষয়ে রাজিব হোসেন পাশা আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন,
“রাজনীতির কারণে ঠিক সময়ে এইচএসসি পরীক্ষা দিতে পারিনি, পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়াটা আমার জন্য বড় যুদ্ধের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু শহীদ জিয়ার আদর্শ আর দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্ব আমাকে শক্তি জুগিয়েছে। আমি চাই আমার ত্যাগের বিনিময়ে সাধারণ ছাত্রদের অধিকার ফিরে আসুক।”
আসন্ন ১নং মাধবখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদে রাজিব হোসেন পাশার মতো একজন পরীক্ষিত ও শিক্ষিত হতে আগ্রহী ত্যাগী নেতাকে দেখতে চায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।