| ২২শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |২৪শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি September 6, 2026, 3:51 pm
Title :
সাভারে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ: প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠছে কঠিন প্রশ্ন শেওড়াপাড়ায় ৫ কাঠা জমি নিয়ে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে মিরপুর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞ শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিএনপিকে একাধিকবার ক্ষমতায় থাকতে হবে: ইশরাক বিশ্ব ইজতেমার প্রাথমিক তারিখ ঘোষণা ইয়াবাসহ ছাত্রদল নেতা আটকের পর দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০ নেপালকে ১০ লাখ ডলার সহায়তা প্রদান করল বাংলাদেশ অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল সরকারের সংশ্লিষ্টদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গালিগালাক  ছাত্র গ্রেপ্তার! উল্টোপথে মন্ত্রীর গাড়ি, মামলা দিলো পুলিশ বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে আপত্তিকর ভিডিও, নোয়াখালীতে দুই শিক্ষক বরখাস্ত

অর্থ সংকট ও দীর্ঘসূত্রতায় থমকে আছে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার প্রকল্প!

সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক খান মেহেদী
  • Update Time : মঙ্গলবার, এপ্রিল ২১, ২০২৬
  • 103 Time View
১৭২
 অর্থ সংকট ও দীর্ঘসূত্রতায় থমকে আছে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার প্রকল্প। ফলে প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন হাজারো যাত্রী। তারা দাবি করেছেন, মাদারীপুর অংশের ৪৭ কিলোমিটার এখন কার্যত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। সেখানে প্রায় ঘটছে দুর্ঘটনা। হাইওয়ে পুলিশের তথ্যমতে, মহাসড়কের এই অংশে গত ছয় মাসে অন্তত ৩০টি দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত ও ৫০ জন আহত হয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সড়ক বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পর্যন্ত ছয় লেন সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হলেও এতে কয়েক হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন। সরকারের এককভাবে এ অর্থ জোগান দেওয়া কঠিন হওয়ায় বিদেশি দাতা সংস্থার সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কিন্তু এখনো কোনো দাতা সংস্থা এগিয়ে না আসায় প্রকল্পটি স্থবির হয়ে আছে।তিনি আরো জানান, আপাতত ২৪ ফুট থেকে ৩২ ফুটে সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ চলমান থাকলেও ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে সেটিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সড়ক বিভাগের তথ্যমতে, ২০১৯ সালে এই মহাসড়কে প্রতিদিন প্রায় ১৯ হাজার যানবাহন চলাচল করত। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ থেকে ৩২ হাজার। অথচ, মাদারীপুর অংশের সড়কের প্রস্থ মাত্র ২৪ ফুট, যেখানে ফরিদপুর ও বরিশাল অংশ ৩২ ফুট প্রস্থ।
পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণাঞ্চলে মানুষের যাতায়াত বেড়েছে বহুগুণ। সরু সড়ক ও অব্যবস্থাপনার কারণে সেই সুবিধা পুরোপুরি ভোগ করতে পারছেন না যাত্রীরা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মহাসড়কে চলাচল করা ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত ভ্যান, মাহিন্দ্র ও নসিমনের মতো ধীরগতির যানবাহনের দৌরাত্ম্য।সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে ভাঙ্গা-মাদারীপুর-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক সম্প্রসারণের প্রস্তাব নেওয়া হয় এবং একই বছর ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়। ২০২৩ সালে মাদারীপুর অংশের ভূমি অধিগ্রহণের জন্য ২৫৮ কোটি টাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম দৃশ্যমান অগ্রগতি পায়নি। ফলে সড়ক সম্প্রসারণও শুরু হয়নি। কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে উন্নয়ন থমকে আছে এমনটি অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দা শাকিব মুন্সী বলেন, “অন্যান্য এলাকার তুলনায় মহাসড়কের মাদারীপুর অংশ খুবই সরু। পাশে মাটি না থাকায় যান চলাচলে সমস্যা হয়, প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।”
ট্রাকচালক আমির হোসেন বলেন, “এই সড়কে গাড়ি চালানো খুবই কষ্টসাধ্য। ধীরগতির যানবাহনের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়। সড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করে আলাদা লেন করলে দুর্ঘটনা কমবে।”
মাদারীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ বলেন, “এই সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সম্প্রসারণ না হওয়ায় দুর্ঘটনা বাড়ছে। প্রশাসনিক জটিলতা দ্রুত দূর করে কাজ শুরু করা জরুরি।”
মাদারীপুর সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মুন্সি মাসুদুর রহমান বলেন, “সড়ক সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জেলা প্রশাসনের কাছে দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে টেকেরহাট থেকে ৬ কিলোমিটার সড়ক সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকি অংশ করা হবে।” ৬ লেন প্রকল্প কবে শুরু হবে, সে বিষয়ে কিছু পারেননি তিনি।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ) জুয়েল আহমেদ বলেন, “সড়ক সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফলে দুর্ঘটনা কমবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category