
তানজিলাঃ
শিল্পাঞ্চল ও রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার সাভারে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ক্রমেই বাড়ছে উদ্বেগ। অপরাধপ্রবণতা,নাগরিক নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্ন তৈরি হলেও কার্যকর পদক্ষেপ কতটা দৃশ্যমান সেই প্রশ্ন এখন সামনে আসছে।
একদিকে বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় নাগরিকদের নিরাপত্তা হীনতার অভিযোগ,অন্যদিকে প্রশাসনিক অনিয়ম ও দায়িত্ব পালনে গাফিলতির নানা অভিযোগ সব মিলিয়ে সাভারের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
অপরাধ বাড়ছে, নিরাপত্তা কোথায়?
সাভারের মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও শিল্পসমৃদ্ধ এলাকায় আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন ছিল শক্তিশালী গোয়েন্দা তৎপরতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং অপরাধ দমনে দৃশ্যমান কঠোরতা। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে যদি নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি হয়, তাহলে প্রশাসনের সক্ষমতা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
শুধু ঘটনার পর অভিযান কিংবা মামলা নয় অপরাধ সংঘটনের আগেই তা প্রতিরোধে প্রশাসনের সক্ষমতা কতটা কার্যকর, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
অনিয়মের অভিযোগ উঠলেই ‘গুজব’ কেন?
প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা বা দপ্তরের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠলেই সেটিকে ‘গুজব’ কিংবা ‘অপপ্রচার’ বলে উড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা থাকলে তা বরং আরও বেশি সন্দেহ তৈরি করতে পারে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত কোনো অভিযোগ সত্য হলে তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, আর মিথ্যা হলে তথ্য-প্রমাণ দিয়ে তা খণ্ডন করা উচিত। কিন্তু সমালোচনাকে চেপে দিতে সুবিধাবাদী মহলের প্রচেষ্টা থাকলে সেটি প্রশাসনের স্বচ্ছতার জন্যও অস্বস্তিকর বার্তা বহন করে।
যোগ্যতার চেয়ে ‘সমীকরণ’ কি বড় হয়ে উঠছে?
সাভারের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দায়িত্ব পালনের জন্য অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ ও মাঠপর্যায়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা অত্যন্ত জরুরি। অথচ বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে গুরুত্বপূর্ণ পদায়নের ক্ষেত্রে প্রকৃত যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতার পাশাপাশি অন্য কোনো প্রভাব বা সুবিধাবাদী সমীকরণ কি প্রাধান্য পাচ্ছে?
যদি এমন অভিযোগের ভিত্তি থাকে,তাহলে বিষয়টিখতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কারণ একজন অযোগ্য বা অদক্ষ কর্মক র্তার ভুল সিদ্ধান্তের প্রভাব শুধু একটি দপ্তরে সীমা বদ্ধ থাকে না; তার প্রভাব পড়ে পুরো এলাকার জননিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায়।
সাভারের মানুষ জবাব চায়
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। প্রশাসনের কাজ হলো নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
সাভারের মানুষ গুজব নয়, তথ্য ও জবাবদিহি চায়। তারা চায় দক্ষ, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল প্রশাসনতাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, প্রশাসনিক অনিয়ম কিংবা পদায়ন নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা এখন সময়ের দাবি।
প্রশ্ন একটাই সাভারের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকার প্রশাসন কি বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে যথেষ্ট সক্ষমতা ও দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে?