
নিজস্ব প্রতিবেদক, মোঃ কাওছার মল্লিকঃ দীর্ঘদিনের ত্যাগ, সংগ্রাম ও রাজপথের ধারাবাহিক সক্রিয়তার স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণে বিপ্লবী যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন তরুণ নেতা মোঃ পলাশ আকন। কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরে গতকাল এ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
পলাশ আকনের পিতা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম এবং মাতা হালিমা বেগম। তার স্থায়ী ঠিকানা পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার ১নং মাধবখালী এবং বর্তমানে ঢাকার খিলগাঁওয়ে বসবাস করছেন। জন্ম ৮ এপ্রিল ১৯৯৮।
শিক্ষাজীবনে তিনি এসএসসি (২০১২, বরিশাল বোর্ড) ও এইচএসসি (২০১৪, ঢাকা বোর্ড) সম্পন্ন করে বর্তমানে ঢাকা কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে অনার্সে অধ্যয়নরত।
রাজনৈতিক জীবনের শুরু ২০০৪ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও জনাব তারেক রহমানের সাথে হাত মিলিয়ে বিএনপির প্রতি টান অনুভব করি।তারপর মাধ্যমিকে যখন অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে তখন থেকে তিনি সক্রিয় রাজনীতি শুরু করে। ২০১২ সাল থেকে গেন্ডারিয়া থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে মাঠ পর্যায়ে সংগঠনকে সুসংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। প্রতিটি আন্দোলন, সংগ্রাম, মিছিল ও মিটিংয়ে তার সরব উপস্থিতি তাকে কর্মীদের কাছে একটি নির্ভরযোগ্য নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নের পথে তিনি একাধিকবার দমন-পীড়নের শিকার হয়েছেন। ২০১৮ সাল থেকে তার বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলাসহ মোট ৭টি মামলা দায়ের করা হয় এবং এসময় তিনি ৩ বার কারাবরণ করেন। কারাগারের প্রতিকূল পরিস্থিতি ও মামলার চাপ সত্ত্বেও তিনি রাজপথ ছেড়ে যাননি—বরং আরও দৃঢ়ভাবে সংগঠনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলে সহকর্মীরা জানান।
সহকর্মীদের মতে, পলাশ আকন শুধু একজন রাজনৈতিক কর্মী নন, বরং একজন “মাঠের সৈনিক”—যিনি নির্দেশনার অপেক্ষা না করে নিজ উদ্যোগে কর্মসূচি বাস্তবায়নে এগিয়ে আসেন। কঠিন সময়ে কর্মীদের পাশে থাকা, ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করা এবং দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আপসহীন মনোভাব তার নেতৃত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তিনি সক্রিয়। অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, শীতবস্ত্র বিতরণ, চিকিৎসা সহায়তা এবং বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আস্থাও অর্জন করেছেন।
নবনিযুক্ত বিপ্লবী যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পলাশ আকন বলেন, “দলের জন্য ত্যাগ ও সংগ্রামই আমার রাজনীতির মূল শক্তি। কারাগার, মামলা বা কোনো চাপ আমাকে থামাতে পারেনি, আগামীতেও পারবে না। সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে জীবনভর কাজ করে যেতে চাই।”
তার এই পদপ্রাপ্তিকে সহকর্মীরা ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন হিসেবে দেখছেন এবং ভবিষ্যতে সংগঠনে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।