
আদালতের নির্দেশে অসহায় ভ্যানচালক মাজেদুলের বসতবাড়ি উচ্ছেদ করে সেখানে পুকুর বা দিঘী খনন কতটুকু মানবিক? কতখানি সঠিক? কতটুকু যৌক্তিক? জানতে চায় বর্তমান প্রজম্ম, জাতি ও দেশের আ’ম জনতা!
ভুক্তভোগীদের দাবী ১০ অক্টোবর শনিবার সরকারী ছুটির দিন তাদের কে আইনি গ্যরাকলে ফেলে কোন প্রকার নোটিশ ছাড়াই ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে প্রত্যন্ত পল্লী শিবরামপুরে উচ্ছেদের নামে করা হয়েছে দুর্বলের উপর সবলের চরম অত্যাচার, সীমাহীন নির্যাতন, ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে ৪ জন শিশু নাবালকসহ ৬ (ছয়) সদস্যের হত দরিদ্র পরিবারের বসতবাড়ি।
যেটি ছিল তাদের বাপ-দাদার ভিটা।
এটি দীর্ঘ কয়েক যুগ থেকে তাদের একমাত্র বাসস্থান, মাথা গোঁজার ঠিকানা। মাজিদুল জমি খন্ড পৈত্রক সুত্র প্রাপ্ত বলে উল্লেখ করেন।
ভুক্তভোগী অসহায় গৃহহীন পরিবারের লোকজন ও মাজেদুলসহ তার শিশু সন্তানেরা কেঁদে কেঁদে বলেন দিনাজপুর সহকারী জজ কোর্টে (বীরগঞ্জ)-এর নাজির তোফায়েল হোসেনের নেতৃত্বে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এলেও তারা কোন ভাংচুর করে নাই কোবলমাত্র ঢোল পিটিয়ে লালঝাটা পুতেছে।
প্রতিপক্ষ প্রতিবেশী ও প্রভাবশালী বড়লোক গোলাম মোস্তফা, তার ছেলে হারুনসহ তাদের ১৫/২০ জনের ভাড়াটিয়া গুন্ডা বাহিনী বসতবাড়ি ভাংচুর করে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। ফলে তারা দিনে খোলা আকাশের নিচে, রাতে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে জীবন যাপন করছে।
মোস্তফা গ্যাং এখন ভ্যাকু দিয়ে জমিটি পুকুর খনন শুরু করেছে, এমন বর্বরতা, বিবেকহীন তান্ডব নিতান্তই অমানবিক, আইন পরিপন্থি, চরম অন্যায়, মারাত্মক বেআইনি।
১১ অক্টোবর সরজমিনে গেলে প্রতিপক্ষ অভিযুক্ত মৃত জবান আলীর পুত্র গোলাম মোস্তফা ও তার ছেলে হারুন অর রশিদ হারুন স্কেভেটর বা ভ্যাকু দিয়ে সেখানে পুকুর খনন কাজে ব্যস্ত ছিলেন।
উচ্ছেদ অভিযান ও পরের দিন ভ্যাকু দিয়ে ঐ জমিতে পুকুর খননের কথা সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য জাদব কুমার অধিকারীসহ গ্রামবাসী নারী-পুরুষেরা স্বীকার করেছেন।
অভিযুক্তদের কাছে জানা যায় অত্র শিবরামপুর (ক্লিনিক পাড়া) মৌজার ২০২০ দাগের সাড়ে ১২ শতাংশ জমি নিয়ে প্রতিপক্ষের সাথে দীর্ঘদিন দিনাজপুর সহকারি জজ আদালত (বীরগঞ্জ) মামলা চলার পর তারা ডিক্রি পেয়েছে।
বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে গতকাল কোর্টের নাজির তোফায়েল, ঢুলি ও থানা পুলিশ এসে মাজেদুলের বাড়িঘর ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দিয়ে জমি থেকে উচ্ছেদ করেছে, আমরা এখানে পুকুর খনন শুরু করেছি।
আদালতের প্রাপ্ত ডিক্রির কাগজ দেখাতে পারেন নাই।
এ ব্যপারে নাজির তোফায়েল হোসেনের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান আদালতের নির্দেশে আমি প্রাপ্ত ম্যাজিষ্ট্রেসি ক্ষমতা বলে সাড়ে ৪ শতক জমির উপরিস্থিত ৩/৪ টি বাঁশের বেড়াযুক্ত টিনের চালাঘর গুঁড়িয়ে দিয়ে উচ্ছেদ করে বাদীকে দখল বুঝিয়ে দিয়েছি।
সেখানে পুকুর খনন করবে না অন্য কিছু করুক তাতে আমার যায় আসে না। সেটি তাদের ব্যপার।
ম্যাজিষ্ট্রেটের উপস্থিতি ছাড়া কোন বসতবাড়ি উচ্ছেদ করা আইন সম্মত কিনা?
জানতে চাইলে নাজির বলেন আমি আমার চাকুরী জীবনে এধরণের অসংখ্য উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছি, কোন ম্যাজিস্ট্রেট-এর প্রয়োজন হয় নাই।
বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম জানান বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে থানার এসআই আতাউর রহমান ও পুলিশ সদস্যরা উচ্ছেদ অভিযানে অংশ নিয়েছিল।