
বিনোদন প্রতিবেদক
নানা সংকটে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি। বলা যায়, একেবারে বন্ধের দোরগোড়ায় এই শিল্প। তবে, এই দুরবস্থার মধ্য দিয়েও ভিন্ন পথ অবলম্বন করে বেশ কয়েকজন আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন। সোজা পথ এড়িয়ে বাঁকা পথে হেঁটে অর্থ বিত্তের মালিক হয়েছেন বলে তাদের নিয়ে ফিল্মপাড়ায় রসালো আলোচনারও শেষ নেই। তেমনই একজন নৃত্য পরিচালক হাবীবুর রহমান হাবিব। এই নৃত্য পরিচালকের নারীঘটিত নানা কেলেঙ্কারি নিয়ে ফিল্মপাড়ায় নানা ধরনের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। সিনেমাশিল্প ধবংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকলেও নিজের সংগ্রহে উঠতি বয়সী বেশ কিছু সুন্দরী মেয়ে থাকাতে এই নৃত্য পরিচালকের দিনকাল ভালোই যাচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে। নির্ভরযোগ্য বেশ কয়েকটি সূত্র জানায়, নিত্যনতুন নারী শিকার ও নিজের স্বার্থ সিদ্ধির পর তাদের ছুঁড়ে ফেলাই বিতর্কিত এই নৃত্য পরিচালকের প্রধান লক্ষ্য।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চলচ্চিত্রের একাধিক ব্যক্তি জানায়, নৃত্য পরিচালক পেশাকে পুঁজি করে নিত্যনতুন নারী শিকারে ব্যস্ত হাবিবের সর্বশেষ শিকার ফারজানা সুমি নামের একজন কথিত নৃত্যশিল্পী। সূত্রটি আরো জানায়, ঘরে স্ত্রী সন্তান থাকার পরেও ফারজানা সুমির সাথে তার অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। আর তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও তাদের ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন ছবিতে এর সত্যতা অনুমান করা যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন নৃত্যশিল্পী জানান, নিজের প্রয়োজনে ফারজানা সুমিকে বিভিন্ন জায়গায় পাঠায় কোরিওগ্রাফার হাবিব। এই ফারজানা সুমিকে কখনো সহকারী নৃত্য পরিচালক বানিয়ে আবার কখনো দলীয় নৃত্যশিল্পী বানিয়ে নিজের নাচের গ্ৰুপে রেখে হাবিব তার অন্ধকার পথের বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে সিনেমাপাড়ার বেশ কয়েকজন। অন্যদিকে বিশদ অনুসন্ধানে জানা যায়, ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই এই নৃত্য পরিচালক বিভিন্ন ধরনের টোপ দিয়ে ও ক্যারিয়ার গড়ে দেওয়ার কথা বলে বহু মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। পরবর্তীতে নিজের প্রয়োজন শেষে তাদেরকে ছুঁড়ে ফেলেছেন বলেও একাধিক নৃত্য শিল্পীর অভিযোগ। অনেক মেয়েকে জোরপূর্বক অনৈতিক কাজে বাধ্য করেছেন বলেও জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী নৃত্যশিল্পীরা। মান সম্মানের ভয়ে অনেকেই এই নৃত্য পরিচালকের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আইনী পদক্ষেপ নেয়নি বুকভরা আক্ষেপ নিয়ে এমন কথাও এই প্রতিবেদককে জানান ভুক্তভোগীরা। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এবং অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে সন্তান নষ্ট করার অভিযোগও করেছেন গণমাধ্যমের সামনে আসতে অনীহা প্রকাশ করা একাধিক নারী। এদিকে, একটি অসমর্থিত সূত্র জানায়, হাবিব ভিন্ন ভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন সহকারী নারী নৃত্য পরিচালককে তার সাথে কাজে নিয়ে থাকেন, কিন্তু যেই নারী নৃত্যশিল্পী তার অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হয় তাকে বাদ দিয়ে দেন। যেখানে ইন্ডাস্ট্রির বেহাল দশা সেখানে একাধিক নারী সহকারী নিয়ে রমরমা ভাবে হাবীব চলছে কিভাবে এই প্রশ্ন অনেকের। বন্ধন বিশ্বাসের অনুদানের চলচ্চিত্র “লাল শাড়ী” তে একজন নারী নৃত্যশিল্পীকে সহকারী নৃত্য পরিচালক হিসেবে কাজে নিলেও হাবিবের অন্যায় আবদারে সাড়া দেয়নি বলে ওই নারীকে বাদ দিয়ে পরবর্তীতে তার নানা অবৈধ কাজের সঙ্গী ফারজানা সুমিকে নেওয়া হয়। ওই সময় ফারজানা সুমি ও হাবিবকে নিয়ে নানা মুখরোচক গল্পও শোনা যায়। এদিকে, পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিস্ট হাসিনার ভয়াবহ দুঃশাসনামলের মন্ত্রী এমপিদের কাছে নিজের সংগ্রহে থাকা মেয়েদের পাঠিয়ে এই নৃত্য পরিচালক বিপুল অর্থ বিত্তের মালিক হয়েছেন বলেও ফিল্মপাড়ায় গুঞ্জন রয়েছে। নিজের নাচের গ্রুপের মেয়েদের দিয়ে প্রযোজকদের শিকার করতেন বলেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ একাধিক বিশ্বস্ত সূত্রের। জুলাই অভ্যুত্থানে হত্যা মামলার আসামী চলচ্চিত্র অভিনেতা ডিপজলকে নিয়মিত নারী সরবরাহ করতেন বলেও অভিযোগ একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের। এই তালিকায় বেশ কয়েকজন উঠতি মডেল এবং ছাত্রহত্যার উস্কানিদাতা, তৃতীয় শ্রেণির এক বিতর্কিত নায়িকার নাম শোনা যাচ্ছে। এছাড়া নারী পাচারের মামলায় গ্রেফতার হওয়া নৃত্য পরিচালক ইভান শাহরিয়ার সোহাগের নারী সাপ্লাই সিন্ডিকেটের সঙ্গেও তার গোপন সংযোগ রয়েছে বলেও জানা গেছে। যোগ্যতা না থাকা স্বত্তেও ফ্যাসিস্ট হাসিনার দোসর সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের দরবারে নারী সরবরাহ করে এই নৃত্য পরিচালক তার জাতীয় পুরস্কারটি বাগিয়ে নিয়েছেন- তাকে নিয়ে আড়ালে আবডালে এমন কথা বলছেন অনেকেই। বালুখেকো, দখলদার ও সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ফ্যাসিবাদের দোসর প্রয়াত প্রযোজক সেলিম খানের ছেলে প্রয়াত শান্তকে নিয়মিত মাদক ও নারী সাপ্লাই দিয়ে হাবিব তার আখের গুছিয়েছেন তাকে নিয়ে এমন অভিযোগও করেছেন সিনেমাপাড়ার একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র। জুলাই অভ্যুত্থান বিরোধী ও ছাত্র হত্যা মামলার আসামী পলাতক চিত্রনায়ক সায়মন সাদিক এবং হত্যামামলার আরেক আসামী কানাডা প্রবাসী জায়েদ খানের সাথে হাবিবের ঘনিষ্ঠতা থাকলেও সে এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে কেন এমন প্রশ্নও দেখা দিয়েছে সিনেমাপাড়ার ফ্যাসিবাদ বিরোধীদের মাঝে।