
লিখন রাজঃ দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর সংগীতাঙ্গনের আলোচনার বাইরে থাকার পর আবারও মিউজিকে ফিরছেন আশিক। নতুন পরিকল্পনা, ভিন্নধর্মী চিন্তা এবং সময়োপযোগী কনটেন্ট নিয়ে তিনি আবারও নিজের জায়গা ফিরে পেতে প্রস্তুত। তার এই প্রত্যাবর্তন ঘিরে ইতোমধ্যে সংগীতপ্রেমীদের মাঝে তৈরি হয়েছে নতুন কৌতূহল ও আগ্রহ।
সংগীত থেকে এতদিন দূরে থাকার সময়টাকে তিনি শুধুই বিরতি হিসেবে দেখছেন না; বরং এটি ছিল নিজের জন্য প্রস্তুতির সময়। এই সময়ের মধ্যে তিনি নিজের কণ্ঠ, স্টাইল, মিউজিক সেন্স এবং কাজের ধরনে পরিবর্তন আনার জন্য নানামুখী চর্চা করেছেন। পাশাপাশি আধুনিক সংগীতের ট্রেন্ড, আন্তর্জাতিক ধারা এবং দেশের বর্তমান শ্রোতাদের পছন্দ সবকিছু বিশ্লেষণ করে নিজের কাজের নতুন দিক নির্ধারণ করেছেন।
আশিক জানান, আমি কখনোই মিউজিক ছেড়ে দেইনি। হয়তো প্রকাশ্যে ছিলাম না, কিন্তু ভেতরে ভেতরে সবসময়ই প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এখন মনে হচ্ছে, নতুনভাবে শুরু করার জন্য সময়টা একদম ঠিক।
জানা গেছে, এই কামব্যাকে তিনি একসঙ্গে সলো ও ব্যান্ড দুই ফরম্যাটেই কাজ করবেন। নিজের একক গানের পাশাপাশি একটি নতুন ব্যান্ড নিয়েও কাজ করছেন তিনি। তবে ব্যান্ডটির নাম এবং সদস্যদের পরিচয় এখনই প্রকাশ করতে চান না। বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেন, “আমি চাই ধীরে ধীরে সবকিছু সামনে আসুক। হুট করে সব বলে দিলে সেই আগ্রহটা থাকে না। সময়মতো সব জানানো হবে।
তার এই নতুন ব্যান্ডকে ঘিরে ইতোমধ্যে ভেতরে ভেতরে কাজ শুরু হয়ে গেছে বলেও জানা গেছে। নিয়মিত রিহার্সাল, গান বাছাই, মিউজিক অ্যারেঞ্জমেন্ট এবং ভিজ্যুয়াল পরিকল্পনা—সবকিছু নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করছেন আশিক। তিনি মনে করেন, ব্যান্ড মিউজিকের মাধ্যমে তিনি নিজের ভাবনাগুলো আরও শক্তভাবে প্রকাশ করতে পারবেন।
কামব্যাকের শুরুটা তিনি রাখতে চান কিছু পরিচিত কিন্তু নতুনভাবে উপস্থাপিত গানের মাধ্যমে। অর্থাৎ, প্রথমে কাভার ও রিমেক গান প্রকাশ করে শ্রোতাদের সঙ্গে আবারও সংযোগ তৈরি করবেন। এরপর ধাপে ধাপে নিজের মৌলিক গান নিয়ে সামনে আসবেন। তার ভাষায়, প্রথমে আমি চাই মানুষ আবার আমার কণ্ঠের সঙ্গে অভ্যস্ত হোক। তারপর নতুন গানগুলো ধীরে ধীরে প্রকাশ করবো, যাতে একটা ধারাবাহিকতা থাকে।
এছাড়া, বর্তমান ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন আশিক। ইউটিউব, ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে নিজের গান ও ভিডিও প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে তার। শুধু অডিও নয়, প্রতিটি গানের সঙ্গে ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিংয়েও জোর দিতে চান তিনি, যাতে দর্শক-শ্রোতারা একটি সম্পূর্ণ অভিজ্ঞতা পান।
সংগীত থেকে বিরতির কারণ হিসেবে আশিক ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কথাই উল্লেখ করেছেন। তবে এই সময়টাকে তিনি নেগেটিভ হিসেবে দেখছেন না। বরং এটাকে তিনি নিজের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচনা করছেন, যা তাকে আরও পরিণত করেছে। তিনি বলেন, বিরতি না নিলে হয়তো আমি নিজেকে নতুনভাবে খুঁজে পেতাম না। এখন আমি অনেক বেশি ক্লিয়ার আমি কী করতে চাই, কীভাবে করতে চাই।
সংগীতপ্রেমীদের প্রতিও নিজের আবেগ প্রকাশ করতে ভোলেননি তিনি। “অনেকেই হয়তো ভাবছিল আমি আর ফিরবো না। কিন্তু আমি ফিরছি, এবং ভালো কিছু নিয়েই ফিরতে চাই। যারা এতদিন অপেক্ষা করেছেন, তাদের জন্যই এই নতুন পথচলা,বলেন আশিক।
সংগীত সংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করছেন, আশিকের এই প্রত্যাবর্তন বর্তমান সংগীতাঙ্গনে নতুন প্রতিযোগিতা এবং সৃজনশীলতার পরিবেশ তৈরি করবে। বিশেষ করে তার ভিন্নধর্মী চিন্তা, নতুন স্টাইল এবং ব্যান্ড-সলো দুই ধারায় কাজ করার পরিকল্পনা তাকে আলাদা করে তুলে ধরতে পারে।
সব মিলিয়ে, দীর্ঘ অপেক্ষার পর আশিকের এই কামব্যাক শুধু একটি ফিরে আসা নয়, বরং একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। এখন দেখার বিষয় নতুনভাবে নিজেকে গুছিয়ে নিয়ে তিনি কতটা সফলভাবে আবারও শ্রোতাদের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে পারেন। সংগীতপ্রেমীরা এখন সেই অপেক্ষাতেই দিন গুনছেন।