| ৯ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি April 22, 2026, 10:33 pm
Title :
আবারও বাড়লো তেলের দাম অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য, জনজীবন জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহ উপলক্ষে কর্মসূচী ঘোষণা গাজীপুরে শ্বশুরবাড়িতে ঠাঁই না পেয়ে দুই সন্তান নিয়ে স্বামীর কবরের পাশে আশ্রয় নিলেন স্ত্রী! আইডি কার্ড বাণিজ্যের অভিযোগে ‘দৈনিক বাংলার সংবাদ’: কথিত আবুল হাসেমের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ বাকেরগঞ্জের সাবেক ইউএনও রুমানা আফরোজের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ, ক্ষুব্ধ সুশীল সমাজ শিবিরকে প্রতিটি ক্যাম্পাসে হাজার বার ‘গুপ্ত’ বলার ঘোষণা ছাত্রদল সম্পাদকের দেশে ডাকাতি, দস্যুতা ও ছিনতাই—এই তিন ধরনের অপরাধ এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে! দিনাজপুর বীরগঞ্জে মাদক সেবনের দায়ে যুবকের এক বছরের কারাদণ্ড এফএসআরইউ বন্ধ, গ্যাস সরবরাহে বড় ধাক্কা

গাজীপুরে শ্বশুরবাড়িতে ঠাঁই না পেয়ে দুই সন্তান নিয়ে স্বামীর কবরের পাশে আশ্রয় নিলেন স্ত্রী!

সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক খান মেহেদী
  • Update Time : বুধবার, এপ্রিল ২২, ২০২৬
  • 16 Time View

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার উত্তর লস্করচালা গ্রামে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্বামীর কবরের পাশেই দুই সন্তানকে নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন সোনিয়া বেগম। মাথা গোঁজার ঠাঁই ও মানবিক সহায়তার অপেক্ষায় দিন কাটছে তার। পাশে রয়েছে ৯ বছরের কন্যা ছোঁয়া এবং ১৮ মাস বয়সী দুগ্ধপোষ্য পুত্রসন্তান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোনিয়া আক্তারের স্বামী সুজন মাহমুদের মৃত্যুর পর থেকেই পরিবারটি চরম সংকটে পড়ে। সোনিয়ার অভিযোগ, শ্বশুরবাড়ির আর্থিক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও যথাযথ চিকিৎসার অভাবে তার স্বামী ধুঁকে ধুঁকে মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পরই তিনি জানতে পারেন, শ্বশুরবাড়িতে তার ও সন্তানদের আর কোনো জায়গা নেই।

সোনিয়ার দাবি, শ্বশুর কফিল উদ্দিন ও শাশুড়ি তাদের গ্রহণ করতে রাজি নন। এমনকি স্বামীর দাফনের সময়ও শ্বশুর উপস্থিত না থেকে স্থান ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দেয়।

এরপর দুই সন্তান নিয়ে চরম অসহায় হয়ে পড়েন সোনিয়া। পরে স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলামের পরিবার মানবিক কারণে কিছুদিন আশ্রয় দিলেও পরবর্তীতে আইনি জটিলতার আশঙ্কায় সেই আশ্রয়ও স্থায়ী হয়নি। কোথাও ঠাঁই না পেয়ে শেষপর্যন্ত স্বামীর কবরের পাশেই আশ্রয় নেন সোনিয়া।

অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে সোনিয়া বেগম বলেন, স্বামীর লাশ ফেলে শ্বশুর চলে গিয়েছিলেন। এখন এই দুই সন্তান নিয়ে কোথায় যাব? আমার আর কোনো জায়গা নেই। তাই বাধ্য হয়ে কবরের পাশে আছি।

এলাকাবাসীর অনেকে মনে করেন, পারিবারিক বিরোধ ভুলে শিশুদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো উচিত ছিল। স্থানীয় সচেতন মহল ও সমাজকর্মীরা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, সোনিয়া ও তার সন্তানদের নিরাপদ বসবাস ও আইনি অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুজনের মা সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। তিনি বলেন, তোমরা এখন চলে যাও, না হলে মারব।

কালিয়াকৈর থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে দুইপক্ষকে নিয়ে মীমাংসার চেষ্টা চলছে। সমাধান না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category