| ২৫শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ |২০শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি February 8, 2026, 2:44 pm
Title :
আবুল হোসেন খান: উন্নয়ন, অভিজ্ঞতা ও মানুষের আস্থার প্রতীক বাকেরগঞ্জে ধানের শীষের পক্ষে সাবেক কাউন্সিলর রেকসনার প্রচার মিছিল ও পথসভা সরকারি প্রকল্পে অর্থ নয়ছয়ের অভিযোগ : প্রশ্নের মুখে প্রকৌশলী সাদরুলের ভূমিকা ডিপিডিসির মাতুয়াইলে গ্রাহক জিম্মি অবৈধ সংযোগ ও ঘুষ বাণিজ্যের নেপথ্যে লাইনম্যান ফিরোজ “সুস্থ প্রজন্মের জন্য পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলার বিকল্প নেই” — ইউএনও রুমানা আফরোজ বরিশালের আওয়ামী লীগ সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান জহিরুলকে ঘিরে জনমনে ক্ষোভ জমকালো আয়োজনে অনুরাগের বর্ষবরণ বিচার যখন নির্দোষের জীবন নেয় গ্রামপুলিশ সদস্যদের সতর্ক করল চাঁদামুক্ত সংগঠন, ১৯–২০তম গ্রেড বাস্তবায়নে ঐক্যের আহ্বান অবৈধ পলিথিন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতিমাসে কয়েক লক্ষ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে নাহিদের বিরুদ্ধে !

পুঠিয়া পৌরসভা : তদন্তের নির্দেশ উপেক্ষা করে বহাল অভিযুক্ত কর্মকর্তা

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, জানুয়ারি ১২, ২০২৬
  • 59 Time View

রাজশাহী প্রতিনিধি :

​রাজশাহীর পুঠিয়া পৌরসভায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সরকারি তদন্তের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন অভিযুক্ত সহকারী প্রকৌশলী ও ভারপ্রাপ্ত পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাইদ মো. শহিদুল আলম। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হলেও রহস্যজনক কারণে তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, আইনি জটিলতার কারণে তাঁরা ব্যবস্থা নিতে পারছেন না।

​স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই এক স্মারকে পুঠিয়া পৌরসভার মেয়র মো. আল মামুন খান ও ভারপ্রাপ্ত পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে ওঠা ১৪টি গুরুতর অভিযোগ সরেজমিন তদন্তের নির্দেশ দেয়।

অভিযোগে বলা হয়, পৌরসভার উন্নয়ন (এডিপি) ও নিজস্ব রাজস্ব তহবিলের অর্থ পিআইসি গঠন, ভুয়া বিল-ভাউচার এবং কাজ না করেই ভুয়া বিলের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে।

​অভিযোগকারী পুঠিয়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. শফিকুল ইসলাম জানান, বাস্তবে কোনো কাজ না করে বা নিম্নমানের কাজ দেখিয়ে কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এসব অনিয়মে প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত পৌর নির্বাহী কর্মকর্তার সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে।

​সরকারি চিঠিতে জেলা প্রশাসনকে সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হলেও দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। মাঠপর্যায়ে কোনো কমিটি গঠন, নথি জব্দ বা প্রকল্প পরিদর্শনের খবর পাওয়া যায়নি।
যদিও স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনাও এসেছে। তবে সেই নির্দেশনা কেন বাস্তবায়িত হচ্ছে না, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

​সচেতন মহলের মতে, তদন্ত চলাকালে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে পদে বহাল রাখা আইন পরিপন্থী। অথচ শহিদুল আলম এখনো স্বপদে থেকে পৌরসভার আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, যা তদন্তের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

​পুঠিয়া পৌর এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর বরাদ্দ এলেও রাস্তাঘাট বা ড্রেনেজ ব্যবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। অনেক প্রকল্পের কাজ কাগজে-কলমে শেষ দেখানো হলেও বাস্তবে সেগুলোর অস্তিত্ব পাওয়া যায় না।

একাধিক জনপ্রতিনিধি জানান, আর্থিক সিদ্ধান্তে কোনো স্বচ্ছতা নেই এবং অনিয়মের প্রতিবাদ করলে চাপের মুখে পড়তে হয়।

​অভিযোগের বিষয়ে জানতে ভারপ্রাপ্ত পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাইদ মো. শহিদুল আলমকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

​রাজশাহী জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক জাকিউল ইসলাম বলেন, ‘তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া আছে। তবে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা উপজেলা প্রশাসন বলতে পারবে।’

​পুঠিয়া পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক শিবু দাস (সহকারী কমিশনার (ভূমি) বলেন, ‘আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি। এ বিষয়ে কিছু জানি না। প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এও) তথ্য দিতে পারবেন।’

​পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুল কাশেম ফজলুল হক বলেন, ‘তদন্ত শেষে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা আছে। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন সরাসরি তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে না, কারণ আইন সেটি কাভার করে না। বিষয়টি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category