
স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল:- বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় চরাদী ইউনিয়নের ফজলুল হক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এডহক কমিটি গঠনের শুরু থেকেই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে। অবশেষে প্রধান শিক্ষকের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি এইএম সোহাগ হাওলাদার।
অভিযোগে জানা গেছে, চরাদি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান ওই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ছিলেন বিভিন্ন সময়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামসুল আলম চুন্নু ও তার ছোট ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা চরাদি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম।
মূলত আওয়ামী লীগের ক্ষমতার আমলে প্রধান শিক্ষকের পছন্দের প্রার্থীদের সব সময় ফজলুল হক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। আর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দলীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয় থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা।
অভিযোগে আরও জানা গেছে, গত বছর ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ বাতিলের পরপরই ফজলুল হক মাধ্যমিক বিদ্যালয় এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন বর্তমান ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সোহাগ হাওলাদার।
প্রধান শিক্ষক আনিসুল রহমান নিজের পছন্দের প্রার্থীকে সভাপতি মনোনীত করতে না পেরে সোহাগ হাওলাদারের বিরুদ্ধে একের পর এক ষড়যন্ত্র শুরু করেন। ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান বিভিন্ন সময় নামে বেনামে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডসহ বিভিন্ন দপ্তরে সোহাগ হাওলাদারের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ দিয়ে আসছেন।
ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতির পদ থেকে সোহাগ হাওলাদারকে অব্যাহতি দিয়েছে।
বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি এইচএম সোহাগকে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই অব্যাহতি দেওয়ার পেছনে রয়েছে প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমানের দীর্ঘদিনের সুপরিকল্পিত তৎপরতা।
এ বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. ইউনুছ আলী সিদ্দিকী বলেন, ফজলুল হক মাধ্যমিক বিদ্যালয় সভাপতির বিরুদ্ধে চরাদি ইউনিয়নের স্থানীয় সাইফুল মৃধা জাল সনদের একটি অভিযোগ দিয়েছিলেন। আমরা সেটা যাচাই-বাছাই করে জাল সনদের কিছু দেখতে পাইনি। তবে কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় কমিটি থেকে সভাপতির পদ অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে এডহক কমিটির সভাপতি সোহাগ হাওলাদর বলেন, ভুল তথ্য দিয়ে আমার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করিয়েছে একটি কুচক্রি মহল। ফজলুল হক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়নের সব সময় পাশে ছিলাম। আমি সব সময় বিদ্যালয়ের সার্বিক মঙ্গল কামনা করি। আমার সার্টিফিকেট জাল নয়। বিদ্যালয় নিয়ে যাতে বিতর্ক না হয়, সেজন্যই শিক্ষা বোর্ড থেকে সভাপতির পদ অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।