| ১৮ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |২০শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি September 2, 2026, 7:59 am
Title :
লক্ষীপুরে মসজিদের অজুখানায় সাংবাদিককে হামলা ও হত্যার হুমকি, আক্তার মেম্বারের অত্যাচারে মান্দারীবাসী অতিষ্ঠ” বাকেরগঞ্জে ‘ধরা ছোঁয়ার বাইরে’ আওয়ামী লীগের দোসর আলমগীর, গোপনে কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ ছাত্রীকে অশ্লীল বার্তা- পাঠানোর অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে; প্রমাণ দেখিয়েও বিদ্যালয়ে প্রতিকার মেলেনি, থানায় জিডি চাষাড়ার এলিট ক্লাবে জমকালো আয়োজনে সংবাদ প্রতিদিনের প্রথম বর্ষপূর্তি উদযাপন চন্দ্রগঞ্জ থানা মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান: একাধিক স্থানে তল্লাশি, মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার’ ও গ্রেফতার কুশাখালী ইউনিয়ন যুবদলে কে গতিশীল ও দক্ষ সংগঠন হিসে বে গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে মাঠে নেমেছেন ইব্রাহিম খলিল বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু গেরিলা সংগঠনের নাম করণ পরিবর্তন করে”বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু আদর্শ লীগ করা হয়েছে নরসিংদীর শিবপুরে তিনটি গরুকে বিষ খাইয়ে হত্যা দলে দুর্দিনে আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করতে দেশব্যাপী আলোচনায় সুনামগঞ্জের পরিচিত মুখ আবু বক্কর ছিদ্দিক (এভি ভাই) গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী তামজীদ এর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

মার্ডারের মত স্পর্শ কাতর ঘটনার পরেও গুলশান-বনানীতে দাপটের সাথে চলছে অসংখ্য সীসা লাউন্জ এবং মিনি পতিতালয়!

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, আগস্ট ১৭, ২০২৫
  • 278 Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক:-  রাজধানীর গুলশান ও বনানী—যেখানে বিদেশি কূটনীতিক থেকে শুরু করে সমাজের উচ্চবিত্ত শ্রেণির বাস, সেই এলাকায়ই গড়ে উঠেছে একের পর এক স্পা সেন্টার, বিউটি পার্লার ও সীসা লাউঞ্জ। কিন্তু এসব নামমাত্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আড়ালে চলছে মাদক বিক্রি, পতিতাবৃত্তি, ব্ল্যাকমেইলসহ ভয়ঙ্কর অপরাধচক্রের রমরমা বাণিজ্য। এমনকি গত বুধবার দিবাগত রাত্রে সীসা লাউঞ্জ কে কেন্দ্র করে একটি মার্ডারের মতো স্পর্শকাতর ঘটনা ঘটে যা বাংলাদেশ ভাইরাল একটি ঘটনা।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, গুলশান-বনানীর প্রায় প্রতিটি রোডেই ফ্ল্যাট বা ভবন ভাড়া নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে স্পা বা বিউটি পার্লার। এসব স্থানে বৈধ ব্যবসার নামে চলছে অবাধ যৌন বাণিজ্য। অভিযোগ রয়েছে—বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে ১৪-১৫ বছর বয়সী মেয়েদের পর্যন্ত ব্যবহার করা হচ্ছে। ফেসবুক ও অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে সেক্সুয়াল ইঙ্গিতপূর্ণ বিজ্ঞাপন দিয়ে গ্রাহক টেনে আনা হয়। স্পা করানোর নামে দেহব্যবসা করানো হয় এবং গোপনে ছবি কিংবা ভিডিও ধারণ করে পরে ব্ল্যাকমেইল করা হয়।

চোখে পড়ার মতো একটি বাড়ি হলো গুলশান-২ এর ২৪ নম্বর রোডের ৯১/বি। এই ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে পঞ্চম তলা পর্যন্ত চলছে একটি পূর্ণাঙ্গ যৌনপল্লী। এর পেছনে রয়েছেন হীরা, মিজান ও মীরাজ নামে তিনজন। রোড ৯৯-এর ৩৭ নম্বর বাড়ির লিফটে পঞ্চম তলায় ‘বাহার’ নামে এক ব্যক্তি গড়ে তুলেছেন আরেকটি পতিতালয়। রোড ৪১, ছোঁয়া বিউটি পার্লারের দ্বিতীয় তলায় ‘কুদ্দুস’ নামে এক ব্যক্তির যৌনপল্লী, যিনি রোড ৯৫-এর ১ নম্বর বাড়ির দ্বিতীয় তলায় একই ধরনের আরেকটি স্পা চালাচ্ছেন।

বিচিত্র তথ্য হলো—এই ভবনটি একবার সিটি করপোরেশন সিলগালা করলেও তালা ভেঙে ফের চালু করে ফেলা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই কুদ্দুস একজন প্রভাবশালী ‘অদৃশ্য শক্তির’ ছত্রছায়ায় ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। গুলশান-২ এর ৩৩ নম্বর হাউজ, রোড ৪৫-এর ‘অধরা থাই স্পা’র আড়ালেও চলছে একই কর্মকাণ্ড, মালিক রত্না আক্তার। গুলশান দুই রোড নাম্বার ৪৭ বাড়ি নাম্বার ২৫ এ মোক্ষীরানী পায়েল লিফটের পাঁচে আবাসিক ভবনে দুইটি ফ্লোর ভাড়া নিয়ে পরিচালনা করছে মিনি পতিতালয়। বনানী ৩ নম্বর রোডের ৪ নম্বর বাড়ির দ্বিতীয় তলায় পায়েল নামে এক আওয়ামীপন্থী মাদক ব্যবসায়ী যৌন পতিতালয়ের ব্যবসা চালাচ্ছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। গুলশান থানার সাবেক ওসি মাহমুদের চাঁদা তোলার এজেন্ট হিসেবে পরিচিত ‘মাফিয়া’ শাহ আলম ( যে নিজেকে Rab -1 সোর্স হিসেবেও পরিচয় দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসায়িকদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা ) রবি টাওয়ারের পাশের ভবনে লিফটের পাঁচে দুটি ফ্লোর ভাড়া নিয়ে গড়ে তুলেছেন স্পা সেন্টার, যেখানে চলছে দেদারসে দেহব্যবসা।

এদিকে রেস্টুরেন্টের লাইসেন্স নিয়েই অনেক আবাসিক ফ্ল্যাটে গড়ে তোলা হয়েছে সীসা লাউঞ্জ। কোনো লাইসেন্স নেই, নেই স্বাস্থ্য বা অগ্নিনির্বাপণ ছাড়পত্র, তবু এসব স্থানে প্রকাশ্যে মাদক সেবন চলছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদুল ইসলাম মোস্তাক স্পষ্ট করে বলেছেন, উত্তর সিটি করপোরেশন কখনো স্পা বা সীসা লাউঞ্জের লাইসেন্স দেয় না। তিনি বলেন, আমরা মাঝেমধ্যে অভিযান চালাই, তবে বাস্তবতা হলো—এই অবৈধ প্রবণতা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামীম আহাম্মদ জানান, সীসা লাউঞ্জের কোনো অনুমতি সরকার দেয় না। এগুলো পুরোপুরি অবৈধ। আমি কিছু লাউঞ্জে মামলা দিয়েছি, কিন্তু অন্যান্য সংস্থাগুলো নিষ্ক্রিয় থাকায় তা থামানো যাচ্ছে না।

গুলশান জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার তারেক মাহমুদ বলেন, যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাই, সঙ্গে সঠিক ঠিকানা থাকে, আমরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিই। আপনারা ঠিকানা দিয়ে সহযোগিতা করলে আমরা ব্যবস্থা নেব।

কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো—কমিশনার অফিসের সামনেই ১৭ নাম্বার রোডের জাতীয় পার্টির অফিসের সামনের ভবনে নীচ তলা থেকে তিন তলা পর্যন্ত চলছে স্পা আর সীসা লাউঞ্জ! সেটির ব্যাপারেও প্রশাসন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। এমনকি বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনো অভিযানের খবর নেই।

এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে—গুলশান ও বনানীর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কীভাবে এসব স্পা, লাউঞ্জ ও পতিতালয় দিনের পর দিন বেঁচে থাকে প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে? বাস্তবতা হলো, চোখ এড়িয়ে নয়—প্রশাসনের চোখের সামনেই চলছে সবকিছু। মাসোহারায় নিশ্চুপ থাকা এক শ্রেণির কর্মকর্তা-পুলিশ সদস্যদের ছত্রছায়ায় জমজমাট হয়ে উঠেছে এই ব্যবসা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category