| ২রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |৩রা সফর, ১৪৪৮ হিজরি July 17, 2026, 4:14 am
Title :
সিরাজগঞ্জ-৬(শাহজাদপুর)আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি চয়ন ইসলাম কা‘রা‘গা‘র থেকে মুক্তি পেলেন বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু গেরিলা সংগঠনের সভাপতি জননেতা আয়মান হোসেন অপু নেতাকর্মীদের সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সরকার অত্যন্ত আন্তরিক : বিভাগীয় কমিশনার ময়মনসিংহ লক্ষ্মীপুরে হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান, ২ প্রতিষ্ঠানে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা সাংবাদিকতার বিশেষ অবদানের জন্য সম্মাননা স্মারক” রথযাত্রা উদ্‌যাপনের লক্ষে ডিএমপির পক্ষ থেকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে : ডিএমপি কমিশনার সুস্থ, শিক্ষিত ও নিয়ন্ত্রিত জনসংখ্যা দেশের সমৃদ্ধি বয়ে আনে : বিভাগীয় কমিশনার ময়মনসিংহ ময়মনসিংহ সেটেলমেন্ট অফিসে কতিপয় কর্মকর্তার বিরুদ্বে দুর্নীতির অভিযোগ ডেপুটি স্পীকারের উদ্দ্যেগে : এগিয়ে যাচ্ছে দুর্গাপুরের সংস্কৃতি স্থানীয় পর্যায়ে অপরাধ দমনে আমাদের আরও চেষ্টা বাড়াতে হবে : ডিসি ময়মনসিংহ

নুরুল হক হাওলাদার,মৃত্যুর পঞ্চম বর্ষেও স্মরণে মানবিকতা,সমাজসেবা ও জনআস্থার এক অনন্য দৃষ্টান্ত

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, মার্চ ৮, ২০২৬
  • 113 Time View

নজরুল ইসলাম আলীম:-বরিশালের পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের কাঠালতলীর বিশিষ্ট সমাজসেবক, জনআস্থার প্রতীক এবং সমাজনির্ভর নেতৃত্বের এক অনন্য উদাহরণ‌ আমার অত্যন্ত কাছের বন্ধু এটিএন নিউজের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার আমিনুল ইসলামের পিতা আলহাজ্ব নুরুল হক হাওলাদারের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী নীরবে পার হলো গত ৭ মার্চ।

২০২০ সালের এই দিনে ফজরের আজানের আগ মুহূর্তে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। সময়ের ব্যবধানে পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও তাঁর স্মৃতি, কর্ম ও মানবিকতার গল্প আজও মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত হয়।

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পরিবারের সদস্য, শুভানুধ্যায়ী এবং এলাকাবাসী গভীর শ্রদ্ধা ও দোয়ার মাধ্যমে তাঁকে স্মরণ করেছেন। বিশেষ করে তাঁর বড় ছেলে, এটিএন নিউজের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার আমিনুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন স্মৃতিচারণমূলক পোস্টে বাবার প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা ও অনুভূতির কথা তুলে ধরেন। সেই পোস্টে ফুটে ওঠে এক জনপদনির্ভর মানুষের জীবনদর্শন এবং একজন সন্তানের গর্বমিশ্রিত আবেগ। বন্ধু আমিনুল ইসলাম তাঁর লেখায় উল্লেখ করেন, বাবাকে নিয়ে খুব বেশি কিছু লেখা তাঁর পক্ষে কখনো সহজ হয়নি। কারণ তিনি শুধু একজন পিতা নন, ছিলেন একটি সমাজের অবলম্বন। তাঁর ভাষায়, “আমার বাবা যেন এক বহমান সমুদ্রের মতো—যিনি আস্ত একটা সমাজকে সাথে নিয়ে বয়ে চলেছেন।” এই একটি বাক্যেই যেন ধরা পড়ে আলহাজ্ব নুরুল হক হাওলাদারের জীবনের দর্শন—নিজেকে নয়, মানুষকে সঙ্গে নিয়েই পথচলা।স্থানীয়দের মতে, আলহাজ্ব নুরুল হক হাওলাদার ছিলেন এমন একজন মানুষ, যিনি ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্যের জীবন ত্যাগ করে সমাজের মানুষের আস্থা অর্জনের পথ বেছে নিয়েছিলেন। পারিবারিকভাবে স্বচ্ছল হওয়া সত্ত্বেও তিনি নিজের আরাম-আয়েশের জীবনকে প্রাধান্য দেননি। বরং তিনি নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন মানুষের কল্যাণে, এলাকার উন্নয়ন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে।রাজনৈতিক অঙ্গনের কঠিন সময়গুলোতেও তিনি ছিলেন নেতৃত্বের প্রতীক। আনুষ্ঠানিক কোনো পদ-পদবি ছাড়াই বহু ক্ষেত্রে মানুষের আস্থার জায়গা হয়ে উঠেছিলেন।

সমাজের সংকটময় মুহূর্তে তিনি ছিলেন নির্ভরতার এক নাম। এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। স্থানীয়রা জানান, তিনি শুধু একজন সংগঠক নন—ছিলেন একজন অভিভাবক, যাঁর কাছে মানুষ পরামর্শ ও সমাধানের আশায় ছুটে যেত।তারই জলযন্ত্র প্রমাণ মিলেছিল তাঁর জানাজায়। কাঠালতলী হাই স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত তাঁর জানাজায় মানুষের ঢল নেমেছিল। সেদিনের সেই দৃশ্য যেন প্রমাণ করে দিয়েছিল—তিনি কেবল একটি পরিবারের নন, বরং একটি জনপদের মানুষ ছিলেন। সেই জানাজায় উপস্থিত অসংখ্য মানুষের সামনে তাঁর ছেলে আমিনুল ইসলাম বলেছিলেন, “আমার বাবা কখনো শুধু আমাদের ছিলেন না, তিনি ছিলেন পুরো এলাকার।”মৃত্যুর পাঁচ বছর পরও সেই কথার সত্যতা যেন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

আজও কাঠালতলীর মানুষের স্মৃতিতে তিনি একজন জনদরদি মানুষ হিসেবেই বেঁচে আছেন। অনেকেই বলেন, তিনি চেয়েছিলেন মানুষের আস্থার জায়গা হতে—এবং তাঁর জীবনের কর্মই সেই স্বপ্নকে বাস্তবতার রূপ দিয়েছে।
আমিনুল ইসলাম তাঁর স্মৃতিচারণে আরও উল্লেখ করেন, তাঁর জীবনে যত পরিচয় এসেছে তার মধ্যে সবচেয়ে গর্বের পরিচয়—তিনি কাঠালতলীর আলহাজ্ব নুরুল হক হাওলাদারের বড় ছেলে। এই পরিচয়ই তাঁর জন্য সবচেয়ে বড় সম্মান এবং গর্বের বিষয়। একজন সন্তানের কাছে এর চেয়ে বড় উত্তরাধিকার আর কী হতে পারে—একজন সৎ, জনদরদি ও সমাজনিষ্ঠ মানুষের সন্তান হওয়া।মৃত্যুর পঞ্চম বর্ষপূর্তিতে পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে সকলের কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে। পবিত্র রমজান মাসে তাঁকে স্মরণ করে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা জানানো হয়েছে—“রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বাইয়ানি সগীরা”

অর্থাৎ, “হে আমার প্রতিপালক, তাঁদের প্রতি দয়া করুন, যেমন তাঁরা আমাকে শৈশবে লালন-পালন করেছেন।”সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা, মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং নিঃস্বার্থ সেবার যে দৃষ্টান্ত আলহাজ্ব নুরুল হক হাওলাদার রেখে গেছেন, তা আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে—এমনটাই মনে করেন এলাকাবাসী। তাঁর জীবন যেন স্মরণ করিয়ে দেয়, প্রকৃত নেতৃত্ব পদ বা ক্ষমতায় নয়, মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেওয়ার মধ্যেই নিহিত।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category