| ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি October 16, 2026, 5:33 pm
Title :
বেনাপোল বন্দরে একসেস প্রকল্পের ইআইএ প্রস্তুতিতে গণশুনানি ও জনমত যাচাই সভা অনুষ্ঠিত আইন মানার মানসিকতা গড়তে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ, বনানী বিদ্যানিকেতনে বিআরটিএর উদ্যোগ কক্সবাজার পাহাড়তলীতে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার দিনাজপুর বীরগঞ্জে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উদযাপন রাজশাহীতে তরুণীর ভিডিও ফাঁসের ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি, আটক কথিত সাংবাদিক কাচু সুপ্ত প্রতিভা ও ঐতিহ্য বিকাশের অঙ্গীকারে ব্লুমিং সান স্কুলে শরৎ উৎসব নরসিংদীর শিবপুরে ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার এর লাইসেন্স না থাকায় ৫০হাজার টাকা অর্থদন্ড দূর্গাপূজায় টানা ৮দিন বন্ধ থাকবে বেনাপোল-পেট্রাপোল দিয়ে আমদানি-রপ্তানি দিনাজপুর বীরগঞ্জ সরকারি কলেজের মেইন গেটের উদ্বোধন করলেন সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম মঞ্জু_এমপি. দিনাজপুর বীরগঞ্জে প্রভাব বিস্তার করে অসহায় ভ্যান চালকের বসতবাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়ে উচ্ছেদ করে সেখানে পুকুর খনন

নুরুল হক হাওলাদার,মৃত্যুর পঞ্চম বর্ষেও স্মরণে মানবিকতা,সমাজসেবা ও জনআস্থার এক অনন্য দৃষ্টান্ত

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, মার্চ ৮, ২০২৬
  • 141 Time View
১৩২

নজরুল ইসলাম আলীম:-বরিশালের পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের কাঠালতলীর বিশিষ্ট সমাজসেবক, জনআস্থার প্রতীক এবং সমাজনির্ভর নেতৃত্বের এক অনন্য উদাহরণ‌ আমার অত্যন্ত কাছের বন্ধু এটিএন নিউজের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার আমিনুল ইসলামের পিতা আলহাজ্ব নুরুল হক হাওলাদারের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী নীরবে পার হলো গত ৭ মার্চ।

২০২০ সালের এই দিনে ফজরের আজানের আগ মুহূর্তে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। সময়ের ব্যবধানে পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও তাঁর স্মৃতি, কর্ম ও মানবিকতার গল্প আজও মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত হয়।

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পরিবারের সদস্য, শুভানুধ্যায়ী এবং এলাকাবাসী গভীর শ্রদ্ধা ও দোয়ার মাধ্যমে তাঁকে স্মরণ করেছেন। বিশেষ করে তাঁর বড় ছেলে, এটিএন নিউজের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার আমিনুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন স্মৃতিচারণমূলক পোস্টে বাবার প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা ও অনুভূতির কথা তুলে ধরেন। সেই পোস্টে ফুটে ওঠে এক জনপদনির্ভর মানুষের জীবনদর্শন এবং একজন সন্তানের গর্বমিশ্রিত আবেগ। বন্ধু আমিনুল ইসলাম তাঁর লেখায় উল্লেখ করেন, বাবাকে নিয়ে খুব বেশি কিছু লেখা তাঁর পক্ষে কখনো সহজ হয়নি। কারণ তিনি শুধু একজন পিতা নন, ছিলেন একটি সমাজের অবলম্বন। তাঁর ভাষায়, “আমার বাবা যেন এক বহমান সমুদ্রের মতো—যিনি আস্ত একটা সমাজকে সাথে নিয়ে বয়ে চলেছেন।” এই একটি বাক্যেই যেন ধরা পড়ে আলহাজ্ব নুরুল হক হাওলাদারের জীবনের দর্শন—নিজেকে নয়, মানুষকে সঙ্গে নিয়েই পথচলা।স্থানীয়দের মতে, আলহাজ্ব নুরুল হক হাওলাদার ছিলেন এমন একজন মানুষ, যিনি ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্যের জীবন ত্যাগ করে সমাজের মানুষের আস্থা অর্জনের পথ বেছে নিয়েছিলেন। পারিবারিকভাবে স্বচ্ছল হওয়া সত্ত্বেও তিনি নিজের আরাম-আয়েশের জীবনকে প্রাধান্য দেননি। বরং তিনি নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন মানুষের কল্যাণে, এলাকার উন্নয়ন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে।রাজনৈতিক অঙ্গনের কঠিন সময়গুলোতেও তিনি ছিলেন নেতৃত্বের প্রতীক। আনুষ্ঠানিক কোনো পদ-পদবি ছাড়াই বহু ক্ষেত্রে মানুষের আস্থার জায়গা হয়ে উঠেছিলেন।

সমাজের সংকটময় মুহূর্তে তিনি ছিলেন নির্ভরতার এক নাম। এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। স্থানীয়রা জানান, তিনি শুধু একজন সংগঠক নন—ছিলেন একজন অভিভাবক, যাঁর কাছে মানুষ পরামর্শ ও সমাধানের আশায় ছুটে যেত।তারই জলযন্ত্র প্রমাণ মিলেছিল তাঁর জানাজায়। কাঠালতলী হাই স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত তাঁর জানাজায় মানুষের ঢল নেমেছিল। সেদিনের সেই দৃশ্য যেন প্রমাণ করে দিয়েছিল—তিনি কেবল একটি পরিবারের নন, বরং একটি জনপদের মানুষ ছিলেন। সেই জানাজায় উপস্থিত অসংখ্য মানুষের সামনে তাঁর ছেলে আমিনুল ইসলাম বলেছিলেন, “আমার বাবা কখনো শুধু আমাদের ছিলেন না, তিনি ছিলেন পুরো এলাকার।”মৃত্যুর পাঁচ বছর পরও সেই কথার সত্যতা যেন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

আজও কাঠালতলীর মানুষের স্মৃতিতে তিনি একজন জনদরদি মানুষ হিসেবেই বেঁচে আছেন। অনেকেই বলেন, তিনি চেয়েছিলেন মানুষের আস্থার জায়গা হতে—এবং তাঁর জীবনের কর্মই সেই স্বপ্নকে বাস্তবতার রূপ দিয়েছে।
আমিনুল ইসলাম তাঁর স্মৃতিচারণে আরও উল্লেখ করেন, তাঁর জীবনে যত পরিচয় এসেছে তার মধ্যে সবচেয়ে গর্বের পরিচয়—তিনি কাঠালতলীর আলহাজ্ব নুরুল হক হাওলাদারের বড় ছেলে। এই পরিচয়ই তাঁর জন্য সবচেয়ে বড় সম্মান এবং গর্বের বিষয়। একজন সন্তানের কাছে এর চেয়ে বড় উত্তরাধিকার আর কী হতে পারে—একজন সৎ, জনদরদি ও সমাজনিষ্ঠ মানুষের সন্তান হওয়া।মৃত্যুর পঞ্চম বর্ষপূর্তিতে পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে সকলের কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে। পবিত্র রমজান মাসে তাঁকে স্মরণ করে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা জানানো হয়েছে—“রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বাইয়ানি সগীরা”

অর্থাৎ, “হে আমার প্রতিপালক, তাঁদের প্রতি দয়া করুন, যেমন তাঁরা আমাকে শৈশবে লালন-পালন করেছেন।”সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা, মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং নিঃস্বার্থ সেবার যে দৃষ্টান্ত আলহাজ্ব নুরুল হক হাওলাদার রেখে গেছেন, তা আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে—এমনটাই মনে করেন এলাকাবাসী। তাঁর জীবন যেন স্মরণ করিয়ে দেয়, প্রকৃত নেতৃত্ব পদ বা ক্ষমতায় নয়, মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেওয়ার মধ্যেই নিহিত।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category