| ১লা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |২৬শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি April 14, 2026, 2:57 pm
Title :
পূর্বাচলে চাঁদাবাজির কেন্দ্রবিন্দু শ্যামল ভূঁইয়া, ব্যবহার হচ্ছে বিএনপির নাম বহিষ্কারের পরও স্বেচ্ছাসেবক দলের পরিচয়ে নববর্ষ শুভেচ্ছা প্রচারণা, রাজশাহীতে বিতর্ক সঠিক পথে থাকলে সফলতা আসবেই উদীয়মান উদ্যোক্তা ই-টপ ম্যাট্রেসর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাঈম সজল!  রাজনীতির অগ্নিপরীক্ষায় থমকে গেছে শিক্ষা জীবন তবুও রাজপথ ছাড়েননি ছাত্রদল নেতা রাজিব হোসেন পাশা সাম্রাজ্যবাদী মার্কিনী- ইহুদিদের পণ্য বর্জন করুন মুহাম্মদ আতা উল্লাহ খান অনুমোদন বিহীন লেভেলিং ও অসাস্থ্যকর পরিবেশে প্যাকেজিং এর বিরুদ্ধে র‍্যাব-৭ এর বিশেষ অভিযান বাকেরগঞ্জে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তৃণমূলের পছন্দ অধ্যক্ষ মশিউর রহমান মাসুদ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে গোলাম মাওলা শাহীন বরিশালের বাকেরগঞ্জে হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক: অভিযান আছে, নেই প্রতিকার! মাধবখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের নেতৃত্বে আসতে চান পরিশ্রমী ছাত্রনেতা বিল্লাল হোসেন!

সঠিক পথে থাকলে সফলতা আসবেই উদীয়মান উদ্যোক্তা ই-টপ ম্যাট্রেসর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাঈম সজল! 

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, এপ্রিল ১২, ২০২৬
  • 13 Time View

খান মেহেদী :- আধুনিক বাংলাদেশের ম্যাট্রেস শিল্পের অন্যতম উদীয়মান উদ্যোক্তা ই-টপ ম্যাট্রেসর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাঈম সজল। মানুষের জীবনযাত্রার মান ও আয় বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রথাগত জাজিম-তোশকের বদলে আধুনিক যন্ত্রে তৈরি ম্যাট্রেস দিয়ে এরই মধ্যে আস্থা অর্জন করেছেন এই তরুণ উদ্যোক্তা। মহামারি করোনা তাকে জীবন নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। শুরুর এই যাত্রা সহজ না হলেও এখন সফল নাঈম।

ই-টপ ম্যাট্রেস শুরুর পেছনের গল্পটি কী, ম্যাট্রেস শিল্প নিয়ে কাজ করার কথা কেন ভাবলেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সাংবাদিকদের জানান।

আমি ২০২০ সালে বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারির প্রকোপ শুরু হলে বাংলাদেশেও জনজীবন ঘরবন্দি হয়ে পড়ে। সেই সময় মানুষের হাতে সময় কাটানোর প্রধান মাধ্যম হয়ে ওঠে মোবাইল ফোন। এই অবসর সময়ে আমি ভাবতে শুরু করি, এই মানুষদের জন্য অনলাইনে কোনো স্মার্ট ব্যবসার আইডিয়া আনা যায় কিনা। সেই ভাবনা থেকেই শিমুল তুলার বালিশ নিয়ে অনলাইনে মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে আমার উদ্যোক্তা জীবনের শুরু। বালিশ বিক্রিতে ভালো সাড়া পাওয়ার পর ২০২১ সালের শুরুতে আমি ‘ই-টপ অফ ম্যাট্রেস’ (ঊঃড়ঢ় ড়ভ গধঃঃৎবংং)-এর যাত্রা শুরু করি। ম্যাট্রেস ব্যবসায় আসার পেছনে মূল কারণ ছিল তখন অনলাইনে ম্যাট্রেস বা বালিশ বিক্রির চল তেমন ছিল না এবং শারীরিক দোকানগুলো বন্ধ থাকায় অনলাইনই ছিল একমাত্র ভরসা। দিনশেষে প্রতিটি মানুষেরই শান্তির ঘুম প্রয়োজন। আমি চেয়েছি এমন একটি প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতা দিতে, যা সাধারণত পাওয়া যায় না। বিশেষ করে ম্যাট্রেস এমন একটি পণ্য যার ভেতরের উপাদান বাইরে থেকে বোঝা যায় না, তাই বিশ্বস্ততা ও গুণগত মান নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েই এই যাত্রা শুরু করি।

বাজারে আরও অনেক নামি-দামি ব্র্যান্ড আছে, তাদের ভিড়ে ‘ই-টপ ম্যাট্রেস’ কেন আলাদা, আপনাদের পণ্যের বিশেষত্ব কী?

বাজারে অনেক নামি-দামি ম্যাট্রেস ব্র্যান্ড থাকা স্বাভাবিক। একটি দেশে ম্যাট্রেস তো একজনই বিক্রি করবে না, অনেকেই থাকবে, ছিল এবং থাকবে। তবে আমার কোম্পানির বিশেষত্ব হলো আমি একটি লাইভ ম্যাট্রেস ফ্যাক্টরি তৈরি করেছি, যেখানে একজন কাস্টমার চাইলে সরাসরি ম্যাট্রেস তৈরির পুরো প্রক্রিয়া দেখতে পারেন। কাস্টমার যদি আমাকে ৩০ মিনিট সময় দেন, তাহলে তিনি ম্যাট্রেসের ভেতরে কী আছে তা দেখার পাশাপাশি নিজের সামনে তার পছন্দ অনুযায়ী ম্যাট্রেস তৈরি করাতে পারবেন। এ ছাড়া এখানে কাস্টমাইজ করার সুযোগ রয়েছে, ফ্যাব্রিক নিজে দেখে নেওয়া যায় এবং নিজের পছন্দ অনুযায়ী ম্যাট্রেস তৈরি করা যায়। অর্থাৎ কাস্টমার নিজে দাঁড়িয়ে থেকে তার ম্যাট্রেস বানিয়ে নিতে পারেন। আমি চেষ্টা করি শতভাগ মানসম্পন্ন পণ্য ন্যূনতম দামে দিয়ে সর্বোচ্চ কোয়ালিটি নিশ্চিত করতে।

আপনারা সাশ্রয়ী মূল্যে ম্যাট্রেস দিচ্ছেন, মান ঠিক রেখে এই দাম কীভাবে নিশ্চিত করছেন?

আমি কম দামে ম্যাট্রেস দিতে পারি মূলত এই কারণে যে আমি নিজেই ম্যাট্রেস ফ্যাক্টরির মালিক এবং সবসময় নিজে দাঁড়িয়ে থেকে প্রোডাক্টের মান নিয়ন্ত্রণ করি। প্রতিটি ম্যাট্রেস আমি তদারকি করি, ফলে কোয়ালিটি ঠিক থাকে এবং বাড়তি খরচ কমে যায়। এ ছাড়া ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের একটি বড় অংশ আমি নিজেই করি, ফলে অন্য কাউকে আলাদা করে টাকা দিতে হয় না, বুস্টিং খরচ ছাড়া। এভাবে আমার মোট খরচ কমে যায় এবং সেই কারণে ম্যাট্রেসের কস্টিংও কম পড়ে। এর ফলেই আমি কম দামে ভালো মানের ম্যাট্রেস কাস্টমারকে দিতে পারি।

উদ্যোক্তা হিসেবে শুরুর দিকে প্রধান চ্যালেঞ্জ কী ছিল এবং কীভাবে মোকাবিলা করেছেন?

শুরুর দিকে যখন আমি অনলাইনে ম্যাট্রেস ও বেডরুম পণ্যের ব্যবসা শুরু করি, তখন অনেকেই এটিকে গুরুত্ব দেয়নি। অনেকে হাসাহাসি করত এবং বলত, প্রতিটি বাসার সামনেই তো ম্যাট্রেসের দোকান আছে, আমার কাছ থেকে কেউ কিনবে না। এসব মন্তব্য সত্যিই চ্যালেঞ্জিং ছিল। তবে আমি শুরু থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে যেহেতু শুরু করেছি, শেষ পর্যন্ত দেখে ছাড়ব। আমি পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করেছি এবং ভালো মানের প্রোডাক্ট দিয়ে কাস্টমারকে বোঝাতে পেরেছি যে এখানে ঠকার কোনো সম্ভাবনা নেই। ধীরে ধীরে আমি কাস্টমারের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি।

পড়াশোনা বা অন্য পেশা ছেড়ে এই ব্যবসায় আসার ক্ষেত্রে পরিবারের সমর্থন কেমন ছিল?

আমি সেন্ট জোসেফ থেকে ইন্টারমিডিয়েট শেষ করে সিদ্ধেশ্বরী কলেজ, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধীনে, থেকে ম্যানেজমেন্টে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেছি। এরপর একটি চাকরি করতাম। কিন্তু ২০২০ সালে করোনার কারণে সেই কোম্পানিটি প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হলে ভাবতে শুরু করি, নিজে কিছু করা যায় কিনা। এই পথে আসতে গিয়ে শুরুতে কিছু ভুল করেছি, ঠকেছি এবং সেখান থেকেই শিখেছি। আসলে না ঠকলে শেখা যায় না, এই অভিজ্ঞতা আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। পরিবারের কথা বলতে গেলে তারা প্রথমে বিষয়টি বুঝতে পারেনি, তবে পরে যখন দেখেছে আমি এগোচ্ছি, তখন তারা আমাকে সমর্থন দিয়েছে।

অনলাইনে গ্রাহকদের বিশ্বস্ততা অর্জন করলেন কীভাবে?

একসময় মানুষ অনলাইনে খুব কম বিশ্বাস করত, বিশেষ করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ির কারণে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ বিশ্বস্ত প্ল্যাটফর্ম খুঁজে অর্ডার করা শুরু করেছে। আমি এই জায়গাটিকে গুরুত্ব দিয়েছি। কাস্টমারের সন্তুষ্টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছি, প্রয়োজনে কোম্পানির লস হলেও কাস্টমারকে ভালো সার্ভিস দিয়েছি। শুরুর দিকে কাস্টমাররা কাস্টমাইজ ম্যাট্রেসের জন্য অ্যাডভান্স দিতে চাইত না, তাই আমি অনেক সময় ক্যাশ অন ডেলিভারিতেও প্রোডাক্ট দিতাম, এমনকি ঢাকার বাইরেও। তবে এতে অনেক খারাপ অভিজ্ঞতা হয়েছে, অনেকে প্রোডাক্ট না নিয়েই অর্ডার বাতিল করেছে, ফলে ক্ষতি হয়েছে। পরে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি কাস্টমাইজ প্রোডাক্টে ক্যাশ অন ডেলিভারি বন্ধ করব। এখন পরিস্থিতি বদলেছে, অনেক কাস্টমার অগ্রিম পুরো টাকা দিয়ে অর্ডার নিশ্চিত করেন।

বিক্রয়োত্তর সেবা বা ওয়ারেন্টি পলিসি কেমন?

ই-টপ ম্যাট্রেস কেনার দায়িত্ব কাস্টমারের, আর সেটি ঠিকভাবে সেবা দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের। আমরা ১২ বছরের লিখিত সার্ভিস ওয়ারেন্টি দিয়ে থাকি। কাস্টমার একটি ফোন কলের মাধ্যমেই আফটার সেলস সার্ভিস পেয়ে যান, ফলে তাদের কোনো দুশ্চিন্তা থাকে না। যদি ম্যাট্রেসে কোনো সমস্যা দেখা দেয়, আমরা ১২ বছরের মধ্যে তা ঠিক করে দিই। এ জন্য আমাদের আলাদা একটি টিম রয়েছে, যারা শুধু ওয়ারেন্টি ও সার্ভিস সংক্রান্ত বিষয়গুলো দেখভাল করে এবং দ্রুত সমস্যার সমাধান নিশ্চিত করে।

শুরুর দিকে এবং বর্তমানে আয় কেমন?

ম্যাট্রেস যেহেতু একটি তুলনামূলক দামি পণ্য, তাই আমাদের কাছে ৬ হাজার ৫০০ টাকার ম্যাট্রেস যেমন আছে, তেমনি ৬৫ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার ম্যাট্রেসও রয়েছে। শুরুর দিকে সেল কম ছিল, তাই আয়ও কম ছিল। কিন্তু এখন ব্র্যান্ড জনপ্রিয় হওয়ায় সেলস অনেক বেড়েছে। আমার ব্যবসার নীতি হলোÑ বেশি সেল করব, প্রফিট কম রাখব। অর্থাৎ বড় স্কেলে বিক্রি করে মোট প্রফিট বাড়ানোর দিকে আমি গুরুত্ব দিই।

একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য কোন গুণটি সবচেয়ে জরুরি?

একজন সফল উদ্যোক্তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গুণ হলোÑ সততা। এর পাশাপাশি কাজের প্রতি আন্তরিকতা, কাস্টমারের প্রতি দায়বদ্ধতা, কর্মচারীদের প্রতি ভালো আচরণ এবং দূরদর্শিতা থাকা জরুরি। সময় মতো কাজ করা এবং মিতব্যয়ী হওয়াও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সবচেয়ে বড় কথা হলো কাস্টমারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। কাস্টমার ইজ অলওয়েজ রাইট, এই নীতিতে কাজ করতে হবে। কম দামে ভালো মানের প্রোডাক্ট দিতে পারলে বাজারে টিকে থাকা সম্ভব, নইলে প্রতিযোগিতার এই যুগে টিকে থাকা কঠিন।

নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?

নতুন উদ্যোক্তাদের বলব দেরি না করে শুরু করুন। যত দেরি করবেন, তত পিছিয়ে পড়বেন। তবে শুরু করার আগে ভালোভাবে পরিকল্পনা করুন। আপনি যে উদ্যোগ নিতে যাচ্ছেন, তার ভবিষ্যৎ কী, বাজার কেমন, এসব চিন্তা করা জরুরি। শুরুর দিকে ব্যর্থতা আসতেই পারে। তখন কেন ব্যর্থ হচ্ছেন তা খুঁজে বের করে আবার নতুনভাবে শুরু করতে হবে। শুরু না করলে কখনোই সফল হওয়া সম্ভব নয়। সঠিক পথে থাকলে একদিন সফলতা আসবেই।

নিজেকে নিয়ে বা প্রতিষ্ঠান নিয়ে আপনার স্বপ্ন কী?

নিজেকে নিয়ে আলাদা কোনো স্বপ্ন নেই, আমার সব স্বপ্ন আমার প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে। আমি ধীরে ধীরে এই প্রতিষ্ঠানকে একটি অবস্থানে নিয়ে এসেছি এবং আরও সামনে এগিয়ে নিতে চাই। আমার লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে যেন ই-টপ ম্যাট্রেস পৌঁছে যায়। পাশাপাশি আমি আরও বেশি কর্মসংস্থান তৈরি করতে চাই। বর্তমানে প্রায় ৫০ জন কাজ করছে, ভবিষ্যতে এটি ১ হাজার জনে পৌঁছাবে, এই লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category