
সুমা খান:-বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) অঞ্চলের রাজনীতিতে যে কয়েকজন নেতৃত্ব মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন খান।দেশের স্বাধীনতার জন্য যিনি অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছেন, সেই মানুষটি পরবর্তীতে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামেও সমানভাবে সক্রিয় থেকেছেন।তিনি শুধু একজন রাজনীতিবিদ নন, একজন পরীক্ষিত দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন মেধাবী ছাত্র হিসেবে ছাত্রজীবন থেকেই তিনি নেতৃত্বের গুণাবলি প্রদর্শন করেছেন।শিক্ষা, সামাজিক সচেতনতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার সমন্বয়ে তিনি নিজেকে তৈরি করেছেন একজন দায়িত্বশীল জননেতা হিসেবে।২০০১ সালে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি বাকেরগঞ্জ এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করেন।
গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণ, ধর্মীয় ও সামাজিক অবকাঠামো নির্মাণসহ বহু উদ্যোগ আজও মানুষের মনে তার কাজের স্মৃতি ধরে রেখেছে।তার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো মানুষের কাছে থাকা।দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা শুনে সমাধানের চেষ্টা করাই ছিল তার রাজনীতির মূল দর্শন।বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং এলাকার মানুষের সাথে গভীর সম্পর্ক তাকে আবারও একটি শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।আজকের প্রতিযোগিতামূলক রাজনীতিতে যোগ্য, অভিজ্ঞ এবং সৎ নেতৃত্বের প্রয়োজন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।
এই বাস্তবতায় আবুল হোসেন খান এমন একজন নেতা, যিনি অতীতের কাজের মাধ্যমে তার সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন।স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশা—যে উন্নয়ন ধারাবাহিকতা একসময় শুরু হয়েছিল, তা আবারও নতুন গতি পাবে তার নেতৃত্বে।বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়নে তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে বলে আশাবাদী।একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তিনি স্বাধীনতার চেতনা ধারণ করেন এবং সেই চেতনাকে উন্নয়ন ও ন্যায়বিচারের রাজনীতিতে রূপ দিতে বিশ্বাসী।তার দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা প্রমাণ করে যে তিনি সংকটের সময়েও জনগণের পাশে থেকেছেন।আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন শুধু একজন প্রার্থী নির্বাচন নয়, বরং এলাকার ভবিষ্যৎ উন্নয়নের দিকনির্দেশনা নির্ধারণেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।এই নির্বাচনে অভিজ্ঞতা, সততা ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতার প্রশ্নটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।বাকেরগঞ্জের মানুষ অতীতে তার কাজ দেখেছে, তার নেতৃত্বের সুফল ভোগ করেছে এবং এখন আবারও নতুন প্রত্যাশা নিয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে।
রাজনীতিতে ব্যক্তিগত সততা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার যে সমন্বয় প্রয়োজন, আবুল হোসেন খান সেই সমন্বয়ের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।উন্নয়নমুখী চিন্তা, মানুষের প্রতি আন্তরিকতা এবং দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাকে আজও প্রাসঙ্গিক করে রেখেছে।তাই আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে এলাকার মানুষের আলোচনায় তার নামই বারবার উঠে আসছে।একজন মুক্তিযোদ্ধার সাহস, একজন শিক্ষিত নেতৃত্বের দৃষ্টিভঙ্গি এবং একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিকের দক্ষতা—এই তিনের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা নেতৃত্বই পারে একটি অঞ্চলের ভবিষ্যৎ পরিবর্তন করতে।আবুল হোসেন খান সেই সম্ভাবনারই প্রতীক হয়ে আজ আবারও জনগণের সামনে উপস্থিত হয়েছেন।
বাকেরগঞ্জের মানুষের প্রত্যাশা—অতীতের উন্নয়ন ও সেবার ধারাবাহিকতা নতুন করে এগিয়ে যাবে তার নেতৃত্বে, এবং এলাকা আবারও উন্নয়ন ও অগ্রগতির নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করবে।মানুষ এখন এমন একটি নেতৃত্ব দেখতে চায়, যিনি শুধু প্রতিশ্রুতি দেবেন না, বরং বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসবেন।তিনি নির্বাচিত হলে বাকেরগঞ্জ পুনর্গঠনের জন্য একটি সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছেন।
প্রথমত, আধুনিক সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলে প্রত্যন্ত এলাকার সঙ্গে শহরের সংযোগ আরও শক্তিশালী করা হবে, যাতে কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্য দ্রুত সম্প্রসারিত হতে পারে।
দ্বিতীয়ত, শিক্ষা খাতকে আরও শক্তিশালী করতে নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, বিদ্যমান স্কুল-কলেজে আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
যুবসমাজের কর্মসংস্থানের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহজ ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করার কথাও তিনি বারবার তুলে ধরেছেন।স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও রয়েছে সুস্পষ্ট উদ্যোগ।উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজন এবং দরিদ্র মানুষের জন্য সহজ চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা হবে তার অগ্রাধিকার তালিকায়।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী করতে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে জিরো টলারেন্স নীতিতে পরিচালনা করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।তার বিশ্বাস, নিরাপদ সমাজ নিশ্চিত করা গেলে বিনিয়োগ, শিক্ষা এবং সামাজিক উন্নয়নের পথ আরও সহজ হবে।কৃষকদের জন্য উন্নত বীজ, সেচ সুবিধা এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার উদ্যোগও থাকবে তার উন্নয়ন পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।একই সঙ্গে নদীভাঙন রোধ ও পরিবেশ সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প গ্রহণের কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন।তিনি মনে করেন, উন্নয়ন তখনই টেকসই হয় যখন তা সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।তাই নারী উদ্যোক্তা, প্রবাসী পরিবার এবং সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনাও তার ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত।আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন তাই শুধু একজন প্রার্থী নির্বাচনের বিষয় নয়, বরং বাকেরগঞ্জকে নতুনভাবে সাজানোর একটি সুযোগ হিসেবে দেখছেন অনেকেই।
অতীতের অভিজ্ঞতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং দীর্ঘদিনের জনসেবার ধারাবাহিকতা নিয়ে তিনি আবারও মানুষের সামনে দাঁড়িয়েছেন নতুন প্রত্যাশা ও নতুন পরিকল্পনা নিয়ে।
বাকেরগঞ্জের মানুষ এখন অপেক্ষায়—একটি আধুনিক, নিরাপদ ও সম্ভাবনাময় জনপদ গঠনের সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তব রূপ দেখার জন্য।