| ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |১১ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি July 25, 2026, 2:34 am
Title :
বঙ্গবন্ধু গেরিলা সংগঠন’-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান জননেতা আয়মান হোসেন অপুর কঠোর নির্দেশনা যমুনায় আজ রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ, জাতীয় ঐক্যের বার্তা নিয়ে তারেক রহমান বাকেরগঞ্জের নিয়ামতি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল সালাম মৃধার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগ, অডিও রেকর্ড ফাঁস বাগেরহাটে সরকারি খাস জমি দখলের অভিযোগে মানববন্ধন, তদন্ত করে রেকর্ড বাতিলের দাবি দিনদুপুরে বরিশালের এডিএম আদালতে ডাকাতি: আসল রিপোর্ট চুরি করে ভুয়া মাদ্রাসা সাজালো সিন্ডিকেট! বঙ্গবন্ধুর গেরিলা বাহিনী সংগঠন কেন্দ্রীয় কমিটি পরিবর্তন সভাপতি আনোয়ার’সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর কে শুভেচ্ছা’ সিরাজগঞ্জ-৬(শাহজাদপুর)আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি চয়ন ইসলাম কা‘রা‘গা‘র থেকে মুক্তি পেলেন বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু গেরিলা সংগঠনের সভাপতি জননেতা আয়মান হোসেন অপু নেতাকর্মীদের সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সরকার অত্যন্ত আন্তরিক : বিভাগীয় কমিশনার ময়মনসিংহ লক্ষ্মীপুরে হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান, ২ প্রতিষ্ঠানে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা

দুই আসিফের আক্রোশের শিকার ক্রিকেট

সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক খান মেহেদী
  • Update Time : শনিবার, এপ্রিল ২৫, ২০২৬
  • 90 Time View

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও আসিফ নজরুল; সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের দুই প্রভাবশালী ক্রীড়া উপদেষ্টা। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দুজনে পর্যায়ক্রমে দায়িত্ব পালন করেছেন। দুই ক্রীড়া উপদেষ্টার আক্রোশের শিকার হয়েছে দেশের ক্রিকেট। তাদের সরাসরি হস্তক্ষেপে দেশের ক্রিকেট আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্কিত হয়েছে, কলুষিত হয়েছে।

২০২৫ সালের ৬ অক্টোবরের বিসিবি নির্বাচনে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছেন সে সময়কার ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

আসিফ নজরুলের গা জোয়ারিতে ২০২৬ সালের টি-২০ বিশ্বকাপ খেলেনি বাংলাদেশ। যা বাংলাদেশের ক্রিকেটের দুই কালো অধ্যায়। দুই উপদেষ্টার সে সময়কার কার্যক্রম নিয়ে দেশের ক্রিকেটের পরিচিত সংগঠক আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ববি বলেন, ‘দুই ক্রীড়া উপদেষ্টার আক্রোশের শিকার হয়েছে দেশের ক্রিকেট।

বলির পাঁঠা হয়েছে দেশের ক্রিকেট। দুজনের সরাসরি হস্তক্ষেপে এগোতে থাকা দেশের ক্রিকেট থমকে দাঁড়িয়েছে। আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছেন বিসিবি নির্বাচনে। যা সুষ্ঠু ধারায় পরিচালিত বোর্ডের কার্যক্রম ব্যাহত করেছে।
তার ইচ্ছাতেই সাকিব আল হাসানের পক্ষে দেশের ক্রিকেটে ফেরা সম্ভব হয়নি। আসিফ নজরুলের গোয়ার্তুমিতে টি-২০ বিশ্বকাপ খেলেনি দেশ। টি-২০ বিশ্বকাপ না খেলা বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে কলঙ্কিত অধ্যায়। বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি।’

এ দেশের ক্রিকেটে অনেক কলঙ্কিত অধ্যায় রয়েছে।

ম্যাচ ফিক্সিংয়ের ক্রিকেটার নিষিদ্ধ হয়েছেন। নিষিদ্ধ ক্রিকেট লিগ খেলে একাধিক ক্রিকেটার নিষিদ্ধ হয়েছেন। বিশ্বকাপ বর্জন, দেশের ক্রিকেটে এর আগে হয়নি। টি-২০ বিশ্বকাপে যৌথ আয়োজক ছিল ভারত ও শ্রীলঙ্কা। ক্রিকেটার, ক্রিকেট সমর্থক, মিডিয়াকর্মীদের নিরাপত্তার অজুহাতে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল টি-২০ বিশ্বকাপ খেলতে সম্মতি দেননি। যদিও পরবর্তী সময়ে বিষয়টি অস্বীকার করেন। শুরুতে মিডিয়াকে জানিয়েছিলেন, বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার বিষয়টি সরকারি সিদ্ধান্ত। পরবর্তী সময়ে ৩৮০ ডিগ্রি ইউটার্ন করে জানান, বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত ক্রিকেট বোর্ড ও ক্রিকেটারদের। তার এমন মন্তব্যে স্তম্ভিত হয়ে পড়েন ক্রিকেটাররা। কিন্তু এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেন ক্রিকেটাররা। বিশ্বকাপ না খেলার ঘটনার শুরু মুস্তাফিজুর রহমানের জন্য। এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রতিদিন।

বাঁ-হাতি পেসার মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স। বাঁ-হাতি এ পেসারকে বাদ দেওয়ার দিনই বিসিবির তৎকালীন পরিচালকরা অনলাইনে বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেন, বিষয়টি নিয়ে পরদিন ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে ব্যাখ্যা চাইবে। বিসিবি প্রক্রিয়া শুরু করতে চাইলেও বিষয়টি জটিল হয়ে পড়ে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্টের পর। ৩ জানুয়ারি উপদেষ্টার স্ট্যাটাস টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের খেলার স্বপ্নকে কফিনবদ্ধ করে। নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতে টি-২০ বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া উচিত হবে না বাংলাদেশের, পোস্ট দেন ক্রীড়া উপদেষ্টা। এরপর আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বিসিবির কিছু করার ছিল না। অথচ বুলবুল বিষয়টি নিয়ে ক্রীড়া উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা না করে সিদ্ধান্ত মেনে নেন। বুলবুলের নেতৃত্বেই বাংলাদেশ প্রথম বিশ্বকাপ খেলে ১৯৯৯ সালে। আবার বুলবুল সভাপতি থাকাকালীন প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলেনি। কিংবদন্তি ক্রিকেটার বুলবুলও বিতর্কিত ও কলঙ্কিত ক্রিকেট চরিত্র হয়েছেন।

বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে হতচকিত হয়ে পড়ে আইসিসি ও স্বাগতিক ভারত। তারা বারংবার চেষ্টা করেছে বাংলাদেশকে খেলাতে। সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন ক্রীড়া উপদেষ্টা। জানান, যদি বাংলাদেশের খেলাগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় নিয়ে যাওয়া হয়, তাহলেই টি-২০ বিশ্বকাপ খেলবে। এর মধ্যে ২২ জানুয়ারি একটি পাঁচতারা হোটেলে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের ডেকে ভারতের মাটিতে কেন টি-২০ বিশ্বকাপ খেলা উচিত নয়, নানান যুক্তিতর্কে ব্যাখ্যা করেন। কিন্তু ভারতের মাটিতে না খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল ১৩ জানুয়ারি। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব-উল আলম স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে স্পষ্ট করে লেখা আছে, ভারত ছাড়া অন্য কোথাও খেলতে গেলেই শুধু সরকারি সহায়তা মিলবে। ভেন্যু ও গ্রুপ পরিবর্তনের জন্য বিসিবি যে চেষ্টা করেছিল, সেখানে আইসিসির কোনো দেশের সমর্থন পায়নি। বাংলাদেশ কেন টি-২০ বিশ্বকাপ খেলেনি এখনো সেটার জন্য কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করেনি বিসিবি।

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও আসিফ নজরুলের সময় দুজন সভাপতি পেয়েছে বিসিবি। আওয়ামী সরকারের পতনের পর বিসিবির সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেন নাজমুল হাসান পাপন। তার জায়গায় বিসিবির নতুন সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় ফারুক আহমেদকে। বনিবনা না হওয়ায় আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার ইচ্ছায় ফারুককে সরিয়ে দেওয়া হয়। তার পরিবর্তে বিসিবির সভাপতি হন আরেক সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে। বুলবুল দ্বিতীয়বার বিসিবির সভাপতি নির্বাচিত হন ৬ অক্টোবরের বিতর্কিত নির্বাচনে। সেই নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। নির্বাচনে ৭৬ ক্লাবে ৩৪টি অংশ নেয়নি। ৪৩ জেলা ও বিভাগের কাউন্সিলর হন তার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায়। বুুলবুলের সঙ্গে নির্বাচিত হন তার আশীর্বাদপুষ্ট বেশ কয়েকজন পরিচালক। নির্বাচন বর্জনকারী ক্লাব এবং জেলা ও বিভাগীয় প্রতিনিধিদের অনুরোধে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের নির্দেশনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। সেই কমিটির মুখোমুখি হননি আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। আসিফ মাহমুদ ইচ্ছাকৃতভাবে দেশসেরা ক্রিকেটার সাকিবকে দেশের মাটিতে ক্রিকেট খেলার অনুমতি দেননি। আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন বলেই সাকিবকে খেলার অনুমতি দেননি। টিভি চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আসিফ মাহমুদ বলেছিলেন, ‘তাকে (সাকিব) বাংলাদেশের পতাকা বহন করতে দেওয়া যাবে না। বাংলাদেশের জার্সির পরিচয় বহন করতে দেওয়া, এটা আমার পক্ষে কোনোভাবেই সুযোগ করে দেওয়া সম্ভব না। ইতিপূর্বে এটা আমি বিসিবিকে না বললেও এখন আমার বোর্ডের প্রতি স্পষ্ট নির্দেশনা থাকবে, সাকিব আল হাসান আর কখনো বাংলাদেশ টিমে খেলতে পারবেন না।’

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ক্রীড়া উপদেষ্টা থাকাকালীন সব ক্রীড়া ফেডারেশন ভেঙে অ্যাডহক কমিটি গঠন করেন। এরপর ক্রীড়াঙ্গনে শিথিলতা নেমে আসে।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category