
নিজস্ব প্রতিবেদক বাকেরগঞ্জ
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল সালাম মৃধার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর থেকে চাঁদাবাজি, প্রভাব বিস্তার এবং বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ও রাজনৈতিক কর্মী।
অভিযোগকারীদের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট পর বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় হিন্দু ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ভয় ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করেছেন সালাম মৃধা তার লোকজন। বর্তমানে দলীয় প্রভাব খাটানো এবং নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে সালাম মৃধার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ করেছেন নিয়ামতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুলতান আহমেদ। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর আমার শ্বশুর আজিজ হাওলাদার নিয়ামতি বাজারে দোকান ঘর নির্মাণ করতে গেলে সালাম মৃধা ও তার লোকজন দোকান ঘর নির্মাণাধীন মালামাল নিয়ে যায় এবং দোকান ঘর নির্মাণে বাধা দেয়। ওই সময় দোকানঘর নির্মাণ করতে হলে তার লোকজনসহ তাকে দেড় লক্ষ টাকা চাঁদা দিতেও হবে বলে দাবি জানায়। পরবর্তীতে তাকে এক লাখ বিশ হাজার টাকা আমি নিজে তার বাসায় গিয়ে দিয়েছি।
এছাড়াও সম্প্রীতি সময়ে নিয়ামতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুলতান আহমেদ সালাম মৃধাকে চাঁদা হিসেবে এক লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়েছেন সেই বিষয়টি স্বীকার করে গণমাধ্যমে একটি বক্তব্য দিয়েছেন। যে অডিও বক্তব্যটি বিভিন্ন ফেসবুক আইডির মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
এছাড়াও ২০২৫ সালের ৯ মার্চ নিয়ামতি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আসাদ উল্লাহ খানকে কুপিয়ে হাত ও পায়ের রগ কেটে দেয়ার অভিযোগে বরিশাল দক্ষিণ জেলাধীন বাকেরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতি ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক সালাম মৃধাকে বহিষ্কার করা হয়।
এ বিষয়ে আব্দুল সালাম মৃধা দাবি করেন, অভিযোগগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তার সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আদিল হোসেন জানান, এ বিষয়ে আমরা কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।