
এনজিও কার্যক্রমে বন উজাড়, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অব্যবস্থাপনা—ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় জনগণ
আমান আনোয়ার কক্সবাজার ২৯ এপ্রিল ২০২৬ইং
ক্যাম্প-৪ এক্সটেনশন, ব্লক-ই—পাহাড় কেটে ১০ ফুট রাস্তা তৈরি করে নতুন করে ৮৮৮টি শেল্টার নির্মাণের কাজ চলমান। প্রকল্প বাস্তবায়নে রয়েছে UNHCR।
এভাবে এনজিও/আইএনজিওগুলো রোহিঙ্গা ইস্যুকে ব্যবহার করে তাদের স্থায়ী করার পায়তারা চালাচ্ছে। বিশেষ করে “সওয়াব” নামক এনজিও এই ধরনের মারাত্মক ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডে জড়িত।
সওয়াব নামের দুর্নীতিগ্রস্ত এনজিও গত বছর ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রায় ১০ (দশ) হাজার সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে ফেলে। পরবর্তীতে আইএমও অফিসে ইট ও খড়ের নিচে লুকিয়ে রাখা সেই গাছ বন বিভাগ উদ্ধার করলেও, এই ক্ষতিকর এনজিওর কোনো বিচার হয়নি। ফলে তারা আবারও একইভাবে রোহিঙ্গাদের স্থায়ী করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
এই স্থায়ী আবাসন বন্ধ করা না হলে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। সওয়াব এনজিওর কর্তারা স্থানীয় দাবি করে শুভপুর ব্রিজ পর্যন্ত এলাকা নিজেদের বলে উল্লেখ করছে। তাই রোহিঙ্গাদের ওই ডাকাতচক্রের এলাকায় স্থানান্তরের প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে।
অন্যথায়, এই সমস্ত দেশদ্রোহী কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। হয়তো এটি সরাসরি সওয়াবের মাধ্যমে না-ও হতে পারে—UNHCR বা IMO সরাসরি করতে পারে। কিন্তু সওয়াব নামের এনজিও গত বছর স্থানীয়দের অংশীদারিত্বে বনায়নের যে ক্ষতি করেছে, তা ভোলার মতো নয়। স্থানীয়দের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তারা প্রতারণা করেছে।
স্থানীয় দুইজন উপকারভোগী—ছৈয়দ করিম এবং গুরা মিয়ার সাথে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তি করার পরও তারা সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। এ ধরনের ক্ষতিকর এনজিওগুলোকে বয়কট করতে হবে।
ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডে জড়িত আইএনজিও/এনজিওগুলো পাহাড় কেটে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে, যার প্রমাণ হিসেবে ছবি সংযুক্ত রয়েছে। কাটা পাহাড়ের বেশিরভাগ মাটি বৃষ্টির সাথে নিম্নাঞ্চলে নেমে এসে বন্যা সৃষ্টি করবে।
এছাড়া এনজিওগুলো বর্জ্য অপসারণের নামে সেগুলো খাল ও ছড়ার পাশে স্তুপ করে রাখে। বর্ষাকালে সেই বর্জ্য তাদের নিয়োজিত কর্মীদের মাধ্যমে পানিতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়—এর ভিডিওও সংযুক্ত রয়েছে। ফলে বর্জ্যগুলো নিচু এলাকায় গিয়ে খাল/ছড়ার পানিপ্রবাহ বন্ধ করে দেয়, যার কারণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে কৃষকের ফসল ও বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।