| ১৩ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |৯ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি April 26, 2026, 11:42 pm
Title :
বীরগঞ্জে ফ্যাসিস্ট টাইপ শিক্ষা অফিসার জুলফিকার শাহের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ! ভিত্তিহীন সংবাদের বিরুদ্ধে সাবেক ইউপি সদস্য মাহমুদুল হাসানের প্রতিবাদ বাহুবলে পূর্ব জয়পুরে অস্ত্রসজ্জিত হামলা-ভাঙচুর, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট; থানায় মামলা স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে আস-সাদাকাহ ফাউন্ডেশনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা কালিয়াকৈরে স্ত্রীকে মেরে ফেলার অভিযোগে স্বামী আটক নাটোরে ৭ বছরের শিশুকে ২১ বছর দেখিয়ে মামলা আমতলীতে চাঁদা দাবির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান, ছাত্রদল কর্মীকে কুপিয়ে আহতের বিচার দাবি খাগড়াছড়িতে ছাত্রলীগের ‘নতুন কমিটির’ সব নেতার নামে মামলা এসএসসি পরীক্ষার তৃতীয় দিনে সর্বোচ্চ বহিষ্কার ৪০০ পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে ৩ বছরে: বিজিএমইএ

বীরগঞ্জে ফ্যাসিস্ট টাইপ শিক্ষা অফিসার জুলফিকার শাহের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ!

সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক খান মেহেদী
  • Update Time : রবিবার, এপ্রিল ২৬, ২০২৬
  • 5 Time View

রনজিৎ সরকার রাজ , দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের বীরগঞ্জে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জুলফিকার আলী শাহের বিরুদ্ধে অনিয়ম, ঘুষ-দুর্নীতি, অসৌজন্য আচরণ, স্বেচ্ছাচারিতাসহ নানা অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মানুষ গড়ার কারিগর সম্মানিত শিক্ষকগণ, তদন্ত সাপেক্ষে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন ও দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

সাবেক হুইপ ইকবালুর রহিমের এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ও নিকটাত্মীয় পরিচয় দানকারী ফ্যাসিস্ট টাইপের শিক্ষা অফিসার জুলফিকারের অত্যাচারে অতিষ্ঠরা পরিত্রাণ পেতে ১৬ এপ্রিল উপজেলার ৫৪ টি হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগপত্র দিনাজপুর-১ আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য সহ শিক্ষামন্ত্রীর কাছে দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে অভিযোগের অনুলিপি শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরসহ দুদকে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগপত্রে ঐ অফিসারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানানো হয়েছে।

জুলফিকার আলী শাহ ইংরেজি ২০ মার্চ’২০২৩ সালে বীরগঞ্জে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার হিসেবে যোগদান করেন এবং তখন থেকেই তিনি ফ্যাসিস্ট কায়দায় প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন, তাঁর বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়া, ফাইল আটকে রাখা এবং অসদাচরণের অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগ রয়েছে কোনো বিষয়ে আপত্তি জানালেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণসহ দুর্ব্যবহার করে থাকেন, কোন পাত্তাই দেন না।

শিক্ষকদের দাবি ইংরেজি ২০২২ সালে বীরগঞ্জে ১০টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় এমপিও ভুক্ত অর্থাৎ জাতীয়করণ করা হয়।

ঐসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতিটি বৈধ এমপিও ফাইল প্রেরণের জন্য তিনি একাধিকবার মোটা অঙ্কের ঘুষ আদায় করেছেন।

টাকা না দিলে ফাইল ফেরত দেওয়া বা আটকে রাখে কালক্ষেপন করার অভিযোগ হয়েছে।

বীরগঞ্জ জনতা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আসমাউল হুসনার অভিযোগ, তাঁর বিদ্যালয়টি এমপিও ভুক্তির মধ্যে ছিল।

অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে শিক্ষকদের বিলের কাজ দুই ধাপে করা হয়।

প্রথম ধাপে চার শিক্ষকের বিল হয়, পরে তার ও একজন পরিচ্ছন্নতা কর্মীর বিল করার জন্য অভিযুক্ত শিক্ষা অফিসার জুলফিকার আলী শাহকে ২ লাখ টাকা ঘুষ দেয়া ছাড়াও খরচ বাবদ কয়েক হাজার বারতি টাকা দিতে বাধ্য হন।

ব্রাহ্মণভিটা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিন জানান তার বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক কে প্রশিক্ষণ চলাকালে অপমান করে কক্ষ হতে বের করে দেয়ায় ঐ শিক্ষক কষ্ট, লজ্জা ও ক্ষোভে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

প্রাণনগর আইডিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, শিক্ষা অফিসার ঘুষখোর পরিবেশ উন্নয়নের জন্য প্রতিটি বিদ্যালয়ে গাছ লাগানো বাবদ ৫ হাজার টাকা করে সরকারি বরাদ্দের চেক গ্রহণ করতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান হতে বাধ্যতা মূলক ৬০০ টাকা করে নগদে ঘুষ দিয়ে চেক নিতে হয়েছে।

শিক্ষক সমিতি বীরগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি আহসান হাবিব ও সাধারন সম্পাদক শাহজাহান সিরাজ শিপন বলেন ঘুষখোর, স্বেচ্ছাচারী ঐ শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে অভিযোগের সীমা নেই।

দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া না হলে শিক্ষকেরা কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জুলফিকার আলী শাহ।

তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সমুহ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট, ষড়যন্ত্রমুলক, উদ্দেশ্য প্রনোদিত বলে দাবী করেন।

তিনি আরও বলেন, অনেকের অন্যায় আবদার মানতে পারি নাই, কাজ করে দিতে পারি নাই এবং যে সকল শিক্ষক নিয়মিত ক্লাশ ফাঁকি দিয়ে আড্ডা মেরে বেড়ায়, তাদেরকে সতর্ক করায় তারা ক্ষিপ্ত এবং সংঘবদ্ধ হয়ে অন্যান্য শিক্ষকদের জোর জবরদস্তি, হাতাহাতি ও মারধর করে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র মুলক অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর নিয়েছেন, যা একটি গুরুতর দন্ডনীয় অপরাধ।

অভিযোগের বিষয়ে বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমা খাতুন কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, একটি অভিযোগের কথা শুনেছি তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছুই জানি না।
দিনাজপুর-১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মনজরুল ইসলাম মঞ্জুর সাথে কথা হলে তিনি অভিযোগ প্রাপ্তির কথা স্বীকার করেছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category