
নিজস্ব প্রতিবেদক :- সকল জেলার আওয়ামীলীগ ছাত্রলীগ যুবলীগ সেচ্চাসেবকলীগ কৃষকলীগ সবাই কে ছাত্রদের পাশে থাকার আহ্বায়ন জানালেন মুজিবিয়ান অনলাইন বিগ্রেড বাংলাদেশের প্রতিষ্টাতা এ.কে এম শ্রাবন সহকারী প্রতিষ্ঠাতা মোঃমাহিন
২১ জুলাই বিমান বিধ্বস্তে সরকারি হিসাবে এখনও পর্যন্ত ৩১ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে ১৬৫ জন। যারা নিহত এবং আহত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন তাদের সিংহভাগই কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রী।
২২ জুলাই দুপুরে আইএসপিআর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো এই তথ্যটা কেন আইএসপিআরকে জানাতে হচ্ছে?
তথ্য জানাবে তো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সেখানে তথ্য দিচ্ছে সামরিক কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে গতকাল থেকে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নিখোঁজ হয়ে গেছেন!
গতকাল রাতেই বিধ্বস্তের ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে মাইলস্টোনে উদ্ধার কার্যক্রমে দায়িত্ব পালনকারী স্বেচ্ছাসেবক এবং শিক্ষকদের সাথে তাদের বাক-বিতন্ডা হয়।
বাক-বিতন্ডার প্রধান কারণ স্বেচ্ছাসেবকরা গণমাধ্যমের কাছে মৃতের সংখ্যা সম্পর্কে (তাদের উদ্ধার তৎপরতা চলাকালীন পর্যবেক্ষণ থেকে) যে আনুমানিক সংখ্যা প্রকাশ করেন সেটিকে কেন্দ্র করে।
সেনাবাহিনী, শিক্ষক এবং ছাত্রদের উপর লাঠিচার্জ করে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে। সেটির প্রতিবাদে আজকে যখন ছাত্ররা বিক্ষোভ করে তখন আইএসপিআর এর পক্ষ থেকে স্টেটম্যান্ট দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতির প্রথম অংশ এমন,‘দুর্ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ব্যাপক ভিড়ের কারণে উদ্ধার কার্যক্রম বারবার ব্যাহত হয়।
সেনাবাহিনীর সদস্য ও মাইলস্টোন স্কুলের স্বেচ্ছাসেবকেরা বারবার অনুরোধ করলেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ ঘটনাস্থল ত্যাগ না করায় সময়মতো আহত ব্যক্তিদের সরিয়ে নেওয়া অনেকটা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে’।
দ্বিতীয় অংশে বলা হচ্ছে,‘উদ্ধার কার্যক্রম চলাকালে বিকেলের দিকে বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও কিছু উৎসুক জনতা ঘটনাস্থল ত্যাগ না করায় উদ্ধারকাজে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়।
ফলে একদল উৎসুক জনতার সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাসদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকদের ভুল–বোঝাবুঝি ও বাদানুবাদের সৃষ্টি হয়, যা একপর্যায়ে একটি অনভিপ্রেত ঘটনার অবতারণা করে’(২২ জুলাই, ২০২৪-প্রথমআলো)।
প্রকৃত ঘটনাটি কিন্তু এমন ছিলো না। যে অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে সেটা উৎসুক জনতার সাথে না। ঘটনা ঘটেছে শিক্ষক ও স্বেচ্ছাসেবী ছাত্রদের সাথে। মৃতের সঠিক তথ্য প্রকাশ না করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে।
ছাত্রদের আজকের ছয় দফা দাবির ৩ নাম্বার দাবি ছিলো,‘ঘটনাস্থলে শিক্ষকদের গায়ে সেনাসদস্যদের ‘হাত তোলার’ অভিযোগে নিঃশর্ত প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে’। বুঝতেই পারছেন আইএসপিআর এর দেওয়া বিবৃতির সত্যতা নাই।
ছাত্রদের সাথে এরকম একটি মর্মান্তিক ডিজাস্টার ঘটার পরেও পরবর্তী দিনের চলমান এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হলো সকাল সাতটায়। এইটা কেমনে সম্ভব হয়!
যখনই জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা করা হয় তখনই এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন ছিলো। অথর্ব্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য রাত পার হয়ে সকাল হলো।
এমন পরিস্থিতিতে সরকারই ছাত্রদেরকে রাস্তায় নেমে আসতে বাধ্য করেছে। তারা যখন রাস্তায় নেমেছে তখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের মতো তার মধ্যে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব খোঁজার চেষ্টা করেছে।
সমস্যাকেন্দ্রিক আলোচনা না করে ইগনোর করেছে। ছাত্রদেরকে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠার মতো পরিস্থিতি তারাই সৃষ্টি করেছে।
শিক্ষার্থীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপে আহত ৭৫ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
যাদের সতীর্থরা হাসপাতালের বেডে শুয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে; মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে; মৃত্যুবরণ করছে। তাদেরকেই পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠাচ্ছে।
পেটানোর লজিক হচ্ছে,এই আন্দোলনে ছাত্রলীগ ঢুকে নাশকতা করেছে। বর্তমান সরকারের কিছু সহমত ভাই-বোনেরাও জ্বী জ্বী বলে সম্মতি জানিয়েছে। ক্ষমতায় বসলেই তখন তো আর কিছুই মনে থাকে না।
২৯ জুলাই ২০২৪ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছিলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ভেতর মিশে গিয়ে বিএনপি-জামায়াতের ক্যাডাররা সাধারণ ছাত্রদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মাধ্যমে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে’(২৯ জুলাই ২০২৪-যুগান্তর) ।
সেই লজিকেই তারা গুলি চালিয়েছিলো। লাঠিপেটা করেছে। হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছে। পঙ্গু করেছে।
ইন্টেরিম,আপনাদের আজকে ছাত্রদের উপর হামলার সাথে পতিত ফ্যাসিস্টের লজিকের কোন পার্থক্য খুঁজে পান কি? বরং অদ্ভুতরকম মিল পাওয়া যায়।
আরে ভাই, তখনও আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্যে বলেছি, একটি যৌক্তিক আন্দোলনে বিভিন্ন পক্ষ সক্রিয় হয়ে ওঠে। সে তার এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করে।
সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে ‘মুভমেন্ট ম্যানেজমেন্ট’ প্রয়োগ করে বিষয়টিকে সমাধানের পথে নিয়ে যাওয়া। সেই পথে না হেঁটে দমনমূলক পথে গেলেই পতন অনিবার্য। আল্টিমেটলি সেটাই ঘটেছে।
কেন আজকে ছাত্রদেরকে আন্দোলনে নামতে হলো? নামার আগেই কেনো এই বিষয়গুলিকে স্ব-উদ্যোগে মিটিগেট করতে পারলেন না? কেনো আপনাদের পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিতে রাত পার হয়ে যায়?
ছাত্ররা যখন রাস্তায় নেমে এসেছে সময়ক্ষেপণ না করে তখনই বিষয়গুলিকে মেটালেন না কেন? মিটিয়ে দিলে তো ছাত্রদের রাস্তায় থাকার সুযোগ ছিলো না।
নিহত বা আহত হলে নির্দিষ্ট হাসপাতালগুলোর সাথে ক্রস চেক করা। কারণ হাসপাতালে যখন ভর্তি হয়েছে তখন অধিকাংশের কোন না কোন তথ্য হাসপাতাল তাৎক্ষনিকভাবে না পেলেও পরে সংরক্ষণ করেছে।
এই সংখ্যাটা নিশ্চিতভাবেই কয়েক হাজার না। প্রত্যক্ষদর্শীরা মিডিয়ার সামনে যেভাবে বোল্ডলি বলছে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে লুকোচুরি করা হচ্ছে।
জামায়াতের আমীর আজকে একটি সমাবেশে বলেছেন, এই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ১০০ এর বেশি হবে।
এরকম একটি জাতীয় সংকটে রাজনৈতিক দলগুলির সাথে সংলাপ হয়েছে আজ রাতে। সেখানে ডাকা হয়েছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশেকে।
এটার ভেতর দিয়ে আবারো প্রমাণ হয় ব্যাসিক্যালি একটি নির্দিষ্ট বর্গের সরকার। বিএনপিকে ডাকতে বাধ্য হয়েছেন বলে ডেকেছেন।
বিমান বাহিনী লক্কড়ঝক্কড় বিমান এখনও সংরক্ষণ করে পাইলটকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে! কি অদ্ভুত কম্বিনেশন এদের! একেই বলে শ্রেনি সম্পর্ক!
আর সেই ঘটনাকে কেন্দ্রকরে যে ‘তাইরে নাই’ করা হয়েছে সেটাও বাংলাদেশের অতি নিম্মমানের রাজনৈতিক সংস্কৃতিরই অংশ।