| ১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |৬ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি April 23, 2026, 10:03 pm

শেবাচিম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নামে শিক্ষার্থীদের ২৭ লাখ টাকা

সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক খান মেহেদী
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৩, ২০২৬
  • 4 Time View

আত্মসাতের অভিযোগ ডিডব্লিউএফ নার্সিং কলেজ কর্তৃপক্ষেল বিরুদ্ধে

প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের দিনভর বিক্ষোভ

ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণের নামে বরিশালের বেসরকারি ডিডব্লিউএফ নার্সিং কলেজ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠান চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।

এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) নার্সিং কলেজ এবং শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রশাসনিক বিভাগে দিনভর বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা।

তাদের অভিযোগ- বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দেয়ার কথা বলে মোটা অংকের এই টাকা হাতিয়ে নিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

তবে বেসরকারি নার্সিং কলেজ শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণের জন্য কোন টাকা নেয়া হয় না বলে দাবি করেছেন শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীর।

অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের কাছ টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করেছেন ডিডব্লিউএফ নার্সিং কলেজ কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি টাকা লেনদেনের বিষয়টি প্রশাসনিক দপ্তরের ব্যাপার। এখানে একাডেমিক কোন বিষয় না।

শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের নার্সিং কলেজে ৬ শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। কলেজে তাদের ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে প্রশিক্ষণের জন্য ২০২৪ সালে প্রত্যেক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা করে নিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

শিক্ষার্থীরা বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা নার্সিং কলেজ চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম জহিরের সাথে দেখা করি। তিনি জানান, তাদের কাছ থেকে নেয়া টাকা হাসপাতাল পরিচালককে দিতে হবে। না হলে সেখানে ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণের অনুমতি দিবেন না তিনি। পরে জানতে পারি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেয়া প্রায় ২৭ লাখ টাকা নার্সিং কলেজ প্রশাসন আত্মসাত করেছেন। আমরা নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। আমরা আমাদের টাকা ফেরত চাই।

এদিকে, ২৭ লাখ টাকার টাকা ফেরত পেতে গত কয়েকদিন ধরেই নগরীর সিএন্ডবি রোডে নিজেদের কলেজ ক্যাম্পাসে আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে আসছে শিক্ষার্থীরা। সবশেষ বৃহস্পতিবার ২৭ লাখ টাকার হিসাব নিতে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিচালকের কাছে যান তারা।

হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীর বলেন, প্রথম আমি ২০২৪ সালে এখানে ছিলাম না। দ্বিতীয়তো কোন বেসরকারি নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোন প্রকার টাকা নেয় না। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ শুনেছি। বিষয়টি আমরা খোঁজ নিয়ে দেখবো। পাশাপাশি এমন অভিযোগ সত্য হলে ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ থেকে বাতিল করা হবে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানা যায়নি ডিডব্লিউএফ নার্সিং কলেজ চেয়ারম্যান জহিরুল হক জহিরের। এমনকি বক্তব্য দিতে রাজি হননি প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মোসাম্মাৎ মমতাজ। প্রতিষ্ঠানের পক্ষে উপদেষ্টা বাসন্তী রাণী বলেন, ‘২০২৪ সালে ৫ আগস্টের পর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেয়া ১০ হাজার টাকা ফেরত দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের নীল বই জমা দিতে বলা হয়েছে। তাছাড়া পুরো বিষয়টি ম্যানেজমেন্টের বিষয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category