
দৈনিক ৭১ সংবাদ ডেক্স :- রাজধানীর পুরান ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হাম প্রাদুর্ভাব এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম ও হামসদৃশ উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৯১ জন। জনবহুল এলাকা হওয়ায় পুরান ঢাকায় সংক্রমণের গতি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক হিসেবে চিহ্নিত করে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ২০ হাজার ৩৫২ জন হাম সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৩ হাজার ৬৫ জন। এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৩ হাজার ১২৯ জন এবং চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছে ১০ হাজার ৪৯৬ জন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান হাম প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
ঢাকা বিভাগেই সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের তথ্য পাওয়া গেছে। এখানে ৮ হাজার ৭৫৯ জন সন্দেহভাজন রোগীর মধ্যে ১ হাজার ৮৪৫ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের প্রায় ৮০ শতাংশই ৫ বছরের কম বয়সী শিশু, যা বিষয়টিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। চিকিৎসকরা বলছেন, পুষ্টিহীনতা এবং নিয়মিত টিকা না নেওয়ার প্রবণতা এই হাম প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে।
পুরান ঢাকার লালবাগ, চকবাজার ও সদরঘাট এলাকায় সংক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। মিটফোর্ড হাসপাতালের চিকিৎসকদের মতে, ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে শিশুরা দেরিতে হাসপাতালে আসায় জটিলতা বাড়ছে এবং মৃত্যুঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে এই হাম প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ৫৪০টি কেন্দ্রে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ৯০টি স্থায়ী ও ৪৫০টি অস্থায়ী কেন্দ্র রয়েছে। ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের এমআর টিকা প্রদান করা হচ্ছে এবং এই কার্যক্রম আগামী ২০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। একই সঙ্গে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও ধাপে ধাপে টিকাদান কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে, যা হাম প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। শিশুর শরীরে জ্বর, চোখ লাল হওয়া বা ত্বকে লালচে দানা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুকে অন্তত ১০ দিন আলাদা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভিটামিন-এ ক্যাপসুল এবং পর্যাপ্ত তরল খাবার নিশ্চিত করাও জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো টিকা গ্রহণই এই হাম প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।