
খান মেহেদী :- দেশের স্বাস্থ্য খাতে রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কেনাকাটা নিয়ে জটিলতার কারণে ১১টি রোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু টিকার সংকট তৈরি হয়। এতে টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হয়। পাশাপাশি ১৫টি রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম বন্ধ করার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর ফলে সংক্রামক ও অসংক্রামক মিলিয়ে অন্তত ২৬টি রোগ ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। এটি আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি খাত কর্মসূচির (এইচপিএনএসপি) আওতায় ১৯৯৮ সাল থেকে দেশে রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। এটি সেক্টর প্রোগ্রাম নামে পরিচিত। বিভিন্ন অপারেশন প্ল্যানের (ওপি) মাধ্যমে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন হতো। এর আওতায় রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ সরবরাহ, প্রশিক্ষণ, গবেষণাসহ মোট ৩৮টি কর্মসূচি পরিচালিত হয়। সরকারি অর্থায়ন ও দাতা সংস্থার সহায়তায় পাঁচ বছর পরপর এই কর্মসূচি নবায়ন করা হতো।
চতুর্থ এইচপিএনএসপি শেষ হয় ২০২৪ সালের জুন মাসে। জুলাইয়ে এক লাখ ছয় হাজার ১০০ কোটি টাকার পঞ্চম এইচপিএনএসপি শুরু হয়ে ২০২৯ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত বছরের মার্চে হঠাৎ করে ওপি বন্ধ করে দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। সংশ্লিষ্টরা জানান, গত দুই বছরে মাত্র পাঁচটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদন হয়েছে। এতে রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে এবং এর প্রভাব পড়ছে পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থায়।
ওপি বন্ধ হওয়ায় হাম ও রুবেলা, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, যক্ষ্মা, ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়া, হেপাটাইটিস, রক্তস্বল্পতা (অ্যানিমিয়া), গর্ভকালীন জটিলতা, কালাজ্বর, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধিতা বা অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার, নারী ও প্রসূতি রোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, কৃমি, রাতকানা, টাইফয়েড, পোলিও, এইচআইভি, ডিপথেরিয়া, পার্টুসিস, ধনুষ্টংকার, হেমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা, নিউমোনিয়া, চর্মরোগ, মানিসক স্বাস্থ্য সমস্যা, অন্ধত্বসহ ২৬টি রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি মুখ থুবড়ে পড়েছে। এরই মধ্যে সংক্রামক রোগ, অসংক্রামক রোগ, প্রাথমিক স্বাস্থ্য, বিকল্প চিকিৎসা, মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য। অপুষ্টি, রোগপ্রবণতা ও শিশুমৃত্যুর হার বাড়তে শুরু করেছে।
টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত
ওপি বন্ধ হওয়ায় সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য অপারেশন প্ল্যানের আওতায় ইপিআই পরিচালিত হতো। গ্যাভির আর্থিক সহায়তায় ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা কিনত ইপিআই। এ পদ্ধতিতে টিকা কেনায় সময় ও জটিলতা তুলনামূলকভাবে কম লাগত। কিন্তু হঠাৎ ওপির মাধ্যমে টিকা কেনার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেয়, ইউনিসেফকে বাদ দিয়ে টিকা কেনা হবে। এতে অর্থ মন্ত্রণালয় নানা প্রশ্ন তোলে। পরে মন্ত্রণালয় আবার টিকা কেনায় ইউনিসেফকে যুক্ত করে। এসব করতে গিয়ে কয়েক মাস সময় চলে যায়। এজন্য গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত টিকা সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেয়। এর ফলে অনেক শিশু নির্ধারিত সময়ে টিকার পূর্ণ বা আংশিক ডোজ পায়নি। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়েছে।
ইপিআই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিশুদের বিভিন্ন বয়সে মোট সাতটি টিকা দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে ১১ ধরনের রোগ প্রতিরোধ করা হয়। রোগের ধরন ও টিকার কার্যকারিতা বিশ্লেষণ করে এই তালিকা সাজানো হয়েছে। যক্ষ্মার মতো ভয়াবহ ব্যাধি থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দেওয়া হচ্ছে বিসিজি (বিসিজি) টিকা।
এ ছাড়া রয়েছে পেন্টাভ্যালেন্ট বা পেন্টা টিকা, যা একাই পাঁচটি রোগ প্রতিরোধে সক্ষম। এটি শিশুদের ডিপথেরিয়া, পার্টুসিস (হুপিং কাশি), ধনুষ্টংকার, হেমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ-বি এবং হেপাটাইটিস-বি থেকে সুরক্ষা দেয়। পোলিও নির্মূলে সরকার দুই ধরনের টিকা ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে মুখে খাওয়ার জন্য ওপিভি এবং ইনজেকশনের মাধ্যমে আইপিভি। এ ছাড়া শিশুদের নিউমোনিয়া থেকে বাঁচাতে দেওয়া হয় পিসিভি টিকা।
হাম ও রুবেলার মতো সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী ভূমিকা রাখে এমআর টিকা। অন্যদিকে, তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন হিসেবে টাইফয়েড প্রতিরোধে শিশুদের দেওয়া হয় টিসিভি টিকা। আর রোটাভাইরাসজনিত ডায়রিয়া প্রতিরোধে ওনার ভ্যাগসিন দেওয়া হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের অব্যবস্থাপনার কারণে এই সবগুলো টিকা প্রদানের কার্যক্রম গত বছর ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যহত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন কার্যক্রম বন্ধ ও সমন্বয়হীনতার কারণে ২৬টি রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তারা।
স্বাস্থ্য খাতে বড় ধরনের ক্ষতি
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বে-নজীর আহমেদ সমকালকে বলেন, অপারেশন প্ল্যান (ওপি) বন্ধ হওয়ায় স্বাস্থ্য খাতে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। এর প্রভাব হিসেবে দেশে সংক্রামক ও অসংক্রামক দুই ধরনের রোগই বাড়তে শুরু করেছে।
অধ্যাপক বে-নজীর আহমেদ বলেন, বৈদেশিক অর্থায়ন কমে যাওয়া এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে ওপি বন্ধ করা হলেও, এ সিদ্ধান্তের পেছনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বা বিকল্প অর্থায়নের কোনো সুস্পষ্ট কৌশল ছিল না। অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়নি। ফলে ওপি বন্ধ হওয়ার পরও এখন পর্যন্ত নতুন করে ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল (ডিপিপি) প্রণয়ন করতে পারেনি বর্তমান সরকার।
এই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের মতে, এখনও দুর্নীতি কমিয়ে পুনরায় অপারেশন প্ল্যান চালু করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের উচিত বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত কার্যক্রম শুরু করা। এখনও যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।
উল্লেখ্য, স্বাস্থ্য খাতের ৩৮টি রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে একসময় নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল ৪৫ হাজার ৭৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। তবে অপারেশন প্ল্যান (ওপি) বন্ধ হওয়ার পর তাদের একটি বড় অংশ অনিশ্চয়তায় পড়েছে। বর্তমানে ১৯ হাজার ৪৯২ জনকে রাজস্ব খাতে নিয়ে বেতন দিচ্ছে সরকার। কিন্তু বাকি ২৫ হাজার ৮৫১ কর্মীর বেতন গত দুই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। এরই মধ্যে বিদ্যমান এই জনবলকে বাইরে রেখে নতুন করে নিয়োগের পরিকল্পনা করছে সরকার, যা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম বন্ধ
ওপি বাতিল হওয়ার আগে সর্বশেষ ২০২৫ সালের মার্চে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানোর ক্যাম্পেইন হয়েছে। তারপর থেকে এই ক্যাম্পেইন বন্ধ রয়েছে। যদিও এই কর্মসূচিতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি রয়েছে বাংলাদেশের। ১৯৭৪ সালে শুরু হওয়া অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব এই কর্মসূচির মাধ্যমে কার্যত নির্মূল করা সম্ভব হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন জরুরি ভিত্তিতে নতুন করে কর্মসূচি না নিলে শিশুদের রাতকানা রোগের ঝুঁকিতে ফেলবে।
এ ছাড়া ২৭ বছর আগে শারীরিক বিকাশে বাধা প্রতিরোধের কৃমি নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি শুরু হয়। প্রতিবছর জাতীয় কৃমি নিয়ন্ত্রণ সপ্তাহে প্রায় দুই কোটি ৬০ লাখ শিশুকে কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়ানো হতো। এই কর্মসূচিও বন্ধ রয়েছে এক বছর ধরে। এতে কৃমি সংক্রমণ ফেরার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমনকি সয়েল ট্রান্সমিটেড হেলমিনথোসিসও নির্মূলের পথে ছিল। এই কর্মসূচিও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
অর্থ সংকটে ২০২৪ সাল থেকে ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম কার্যত সীমিত রয়েছে। অথচ দেশে এখনও ১৩টি জেলা ম্যালেরিয়াপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত। প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম বিশেষ করে মশারি বিতরণ, দ্রুত শনাক্তকরণ ও স্থানীয় চিকিৎসা বন্ধ করার কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই সংক্রমণ ফের বাড়তে শুরু করবে। এই কর্মসূচির অধীনে বছরে তিনটি ডেঙ্গু জরিপ করা হতো, সেটিও গত বছর থেকে বন্ধ রয়েছে। এতে ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়া, ডেঙ্গু বাড়তে শুরু করেছে।
১৮ বছর আগে কালাজ্বর নিয়ন্ত্রণে কর্মসূচি নেওয়া হয়। উপজেলা পর্যায়ে এটি প্রায় নির্মূল অবস্থায় আনা হয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে কার্যক্রম বন্ধ থাকায় প্রায় ৩৮ মিলিয়ন ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে রোগটি ফের ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির একটি বড় অংশের কার্যক্রম ওপির মাধ্যমে হতো। এটিও ২০২৪ সালের জুনের পর বন্ধ। গত বছর নতুন করে ডিপিপি জমা দিলেও অনুমোদন হয়নি। ফলে দীর্ঘ সময় বন্ধ রয়েছে ওষুধ ও টিকার কেনাকাটা। এতে মাঠ পর্যায়ের চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে মার্কিন সহায়তা সংস্থা ইউএসএইড ও গ্লোবাল ফান্ডের অর্থায়ন বন্ধ হয়ে গেছে। এককভাবে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে নতুন করে কোনো অর্থায়ন করবে না এই দুটি প্রতিষ্ঠান। পরিস্থিতি সামাল দিতে গত জুনে নতুন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) করা হয়, যা এখনও অনুমোদন হয়নি। যক্ষ্মা ঝুঁকিতে রয়েছে দেশ।
ওপির মাধ্যমে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও কিশোরীদের রক্তস্বল্পতা ও অপুষ্টি দূর করতে ফলিক এসিড ও আয়রন ট্যাবলেট দেওয়া হতো। ২০২৪ সালের পর থেকে এটি দেওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। এতে গর্ভকালীন রক্তস্বল্পতা (অ্যানিমিয়া), গর্ভকালীন জটিলতা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শারীরিক, মানসিক চিকিৎসার লক্ষ্যে ওপির মাধ্যমে ২০০৮ সালে গড়ে তোলা হয় ৩৫টি শিশু বিকাশ কেন্দ্র। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। খরচ কমাতে সেখানকার ৩৫ চিকিৎসককে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা প্রস্তুত করে সরকার। এতে অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার শিশুর চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে।
ডায়াবেটিস বা হৃদরোগের মতো দীর্ঘমেয়াদি ও অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমাতে সরকারের অন্যতম উদ্যোগ হচ্ছে অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ (এনসিডিসি) কর্মসূচি। এর অধীনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এনসিডি কর্নারের মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ের জনসাধারণকে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস-বিষয়ক বিভিন্ন জরুরি সেবা দেওয়া হয়। গত দেড় বছর ধরে এইসব কেন্দ্রে ওষুধ মিলছে না। এতে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ বাড়বে। মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার চিকিৎসা নিশ্চিতে ওপি মাধ্যমে কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। গত দেড় বছর এই কর্যক্রমও বন্ধ। এই মানসিক সমস্যার রোগী চিকিৎসাসেবা সীমিত হয়েছে।
২০১৩ সালে গ্লোবাল ফান্ডের অর্থায়নে শুরু হয় বিনামূল্যে এইচআইভি শনাক্তকরণ কর্মসূচি। তবে ওপির মেয়াদ ২০২৪ সালের জুনে শেষ হওয়ার পর থেকেই কিট সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। চলতি বছরে এক লাখ ১০ হাজার ডিটারমাইন কিট কেনা হলেও ইউনিগোল্ড ও ফার্স্ট রেসপন্স কিট যথেষ্ট পরিমাণে সংগ্রহ করা হয়নি। এতে কিট সংকট দেখা দিয়েছে। এতে শনাক্তের বাইরে চলে যাবে অনেক রোগী। এর বাইরে গবেষণা ও প্রশিক্ষণমূলক প্রোগ্রাম ছিল না গত দেড় বছর। এটা আরও সংকট তৈরি করবে।
বিশেষজ্ঞরা কী বলেন
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ভাইরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার কোনো জরিপ বা গবেষণা না করেই ওপি বাতিল করেছে। এমনকি এর বিকল্প কী হবে, সেটিও তারা ঠিক করেনি। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ সংকট স্বাস্থ্যকে অনেক দিন ভোগাবে।
জনস্বাস্থ্যবিদদের সংগঠন পাবলিক হেলথ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট (ইলেক্ট) অধ্যাপক ডা. আবু জামিল ফয়সাল বলেন, সরকার চলমান ডিপিপি বাস্তবায়ন করার পাশাপাশি নতুন কর্মকৌশল নিয়ে বিস্তর আলোচনা করতে পারে। সবার সম্মতি নিয়ে নতুন কর্মকৌশল নির্ধারণ করতে হবে।
স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিনের দাতা নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে সরকার ‘এক্সিট প্ল্যান’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছিল বলে জানিয়েছেন সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান। তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের পরিকল্পনার ঘাটতির কারণে এ প্রক্রিয়ায় কিছু বিলম্ব ও বিঘ্ন অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। আওয়ামী লীগ সরকার কোনো এক্সিট প্ল্যান ছাড়াই কর্মসূচিটি শেষ করে এবং আরও দুই বছর বাড়িয়ে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চালায়।
সাবেক এই বিশেষ সহকারীর দাবি, দীর্ঘদিন অপারেশন প্ল্যান-নির্ভর ব্যবস্থার কারণে অধিদপ্তর, মন্ত্রণালয় ও উন্নয়ন সহযোগীদের একাধিক ডিপিপি প্রণয়নে সময় বেশি লেগেছে। পাশাপাশি এসব প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ ও একনেকের অনুমোদন প্রক্রিয়ায়ও প্রায় এক বছর সময় ব্যয় হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বকুল সমকালকে বলেন, হামের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে সরকার যেমন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে, তেমনি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে নতুন করে ডিপিপি বা ওপি দ্রুত প্রস্তুতের ব্যবস্থা আমরা করব। এরই মধ্যে আরও যক্ষ্মা পরীক্ষা কিট ও ওষুধের সরবরাহ ঠিক রাখতে জরুরি বৈঠক করে পাঁচ সদস্যের কমিটি করে দিয়েছি।