| ৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |১লা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি April 18, 2026, 8:52 pm
Title :
বরিশালের ব্রীজ নির্মানে রডের পরিবর্তে বাশঁ, সত্যতা পেয়েছে প্রশাসন বরিশালে বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতির আলোয় মাস্টার্স পরীক্ষা, ভিডিও ভাইরাল” তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত কোথাও কোথাও ১০ ঘণ্টা থাকে না বিদ্যুৎ!  শিশুদের খেলা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে জামাত-বিএনপি সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার ২১ পিরোজপুরে জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ ৭ পদে আওয়ামীপন্থিরা জয়ী বরিশালের মুলাদীতে শিশুদের হাতের টানেই উঠে যাচ্ছে সড়কের পিচ! অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্বল পরিকল্পনা টিকার অব্যবস্থাপনায় ১১ রোগের বিস্তার! জ্বালানি-সংকটে চট্টগ্রামে বন্ধ ১০ বিদ্যুৎকেন্দ্র, ভোগান্তিতে নগরবাসী কলাপাড়ায় ভিক্ষুকের কাছে ওষুধের দাম কম রাখায় ফার্মেসি বন্ধ বাংলাদেশ পোশাক রপ্তানিতে ধারাবাহিক ধস

জ্বালানি-সংকটে চট্টগ্রামে বন্ধ ১০ বিদ্যুৎকেন্দ্র, ভোগান্তিতে নগরবাসী

সহ-সম্পাদক ও প্রকাশক খান মেহেদী
  • Update Time : শনিবার, এপ্রিল ১৮, ২০২৬
  • 11 Time View

খান মেহেদী :- ভ্যাপসা গরমের মধ্যে চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। জ্বালানি ও গ্যাস সংকটের কারণে চট্টগ্রামের ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ১০টিই বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। এর ফলে বন্দরনগরীর বিভিন্ন এলাকায় দিনে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে, যার প্রভাবে দেখা দিয়েছে তীব্র পানি সংকট।

চট্টগ্রাম সিস্টেম কন্ট্রোল (স্কাডা) সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বেলা ১১টায় চট্টগ্রামে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১ হাজার ২৯১ দশমিক ৬০ মেগাওয়াট, বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১ হাজার ২০০ দশমিক ৭০ মেগাওয়াট। ফলে দিনের শুরুতেই প্রায় ৯১ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়। সন্ধ্যায় চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বাড়লেও উৎপাদিত বিদ্যুতের একটি বড় অংশ জাতীয় গ্রিডে চলে যাওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে লোডশেডিং অব্যাহত থাকে।

জ্বালানি সংকটে বর্তমানে চট্টগ্রামের ১০টি বড় কেন্দ্র থেকে কোনো বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে না। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো রাউজান ১ ও ২; ২১০ মেগাওয়াট করে মোট ৪২০ মেগাওয়াট সক্ষমতার দুটি ইউনিটই বন্ধ। মাতারবাড়ি কোল পাওয়ার প্ল্যান্ট; সকালে উৎপাদন হলেও সন্ধ্যায় তা শূন্যে নেমে আসে।জুলধা ২ ও ৩; প্রতিটি ১০০ মেগাওয়াট করে ২০০ মেগাওয়াট সক্ষমতা অলস পড়ে আছে। কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র; ৫টি ইউনিটের মধ্যে সচল রয়েছে মাত্র ২টি। এছাড়া এনলিমা, জুডিয়াক এবং কক্সবাজার উইন্ড প্ল্যান্টও বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।

বর্তমানে চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ সরবরাহ মূলত বাঁশখালীর এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট (৬১২ মেগাওয়াট) এবং শিকলবাহা (২১৮ মেগাওয়াট) কেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

চকবাজার, বহদ্দারহাট, আগ্রাবাদ, হালিশহর ও বাকলিয়াসহ নগরের প্রায় সব এলাকায় ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। একবার বিদ্যুৎ গেলে তা ফিরতে দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগছে। লোডশেডিংয়ের প্রভাবে ওয়াসা পর্যাপ্ত পানি পাম্প করতে না পারায় অনেক এলাকায় পানির হাহাকার শুরু হয়েছে।

কল্পলোক এলাকার বাসিন্দা নুরুল আলম বলেন, “ভ্যাপসা গরমে শিশুদের নিয়ে ঘরে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। একদিকে বিদ্যুৎ নেই, অন্যদিকে পাম্প না চলায় পানির অভাবে দৈনন্দিন কাজ স্থবির হয়ে গেছে।”

পিডিবির চট্টগ্রাম স্কাডা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফাহমিদা জামান জানান, গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়া এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের কারণে কয়েকটি কেন্দ্র বন্ধ রাখতে হয়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়ছে।

সামনে গরম আরও বাড়লে বিদ্যুতের চাহিদা ১ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যেতে পারে। জ্বালানি সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক না হলে চট্টগ্রামের পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category